দার্জিলিংয়ের সিটংয়ের হোমস্টে-তে বারবিকিউতে দাউদাউ আগুন! সেই আগুনে ঝলসে গেলেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু কীভাবে লাগল আগুন? বারবিকিউতে কিছু ঢালার পরেই আগুন ধরে গিয়েছিল। কী ঢালা হয়েছিল? সেই প্রশ্ন ওঠে। ওই হোমস্টের মালিকের বক্তব্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রান্নার তেলের বদলে ঢালা হয়েছিল কেরোসিন! সেজন্যই মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। সামনে থাকা তরুণী নিকিতা সাহা ঝলসে যান। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন স্বামী সমীর দাস। নিকিতা ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে শিলিগুড়িরই একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উত্তর ২৪ পরগনার চোপড়ার বাসিন্দা ওই নবদম্পতি। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর গত দুই মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। দিন কয়েক আগে দু’জনে দার্জিলিংয়ের সিটংয়ের হোমস্টে-তে মধুচন্দ্রিমায় যান। আর সেখানেই ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা হোমস্টের বারান্দায় বসেছিলেন। সামনে বারবিকিউ তৈরি হচ্ছিল। তখনই দাউদাউ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তে আগুনে ঝলসে যান নিকিতা।
দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বারবিকিউয়ের সামনে ওই দম্পতি। ছবি-সংগৃহীতহোমস্টে-র সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে বারবিকিউ-য়ে কিছু ঢালার পরেই দাউদাউ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ধরে যায় নিকিতার গায়েও। পরণের টিশার্ট খুলে স্ত্রীর গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী। হোমস্টে কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনও সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও হোমস্টে-র তরফে কোনও খোঁজখবর করা হয়নি! ওই ঘটনার পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ডাকা হয়েছিল। সেই গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট পর সেখানে পৌঁছয়। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিকিতাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আগুন ধরে যাওয়ার পর স্ত্রীকে রক্ষা করতে মরিয়া স্বামী।মৃত্যুর সঙ্গে নিকিতা এই মুহূর্তে পাঞ্জা লড়ছেন। চোপড়া থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন। নিকিতার স্বামী সমীর জানিয়েছেন, তারপিন তেল ঢালার কারণে আগুন ধরে যায়। হোটেলের মালিক নিহাল আইয়ান ওই কর্মীর গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন। ওই কর্মী রান্নার তেলের বদলে কেরোসিন ঢেলেছিলেন, সেই কথা কর্তৃপক্ষের তরফে স্বীকার করা হয়েছে। কোনও সাবধানতা অবলম্বণ করা হয়নি বলেও পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কার্শিয়াং থানায় ওই হোমস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে নিকিতার পরিবার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
নরেন্দ্র মোদি প্রথম সাক্ষাতেই আমাকে এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী করে তোলেন। তখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর যখন দেশের প্রশাসনিক প্রধান হলেন, তখনও তাঁর চিন্তাদর্শন বদলায়নি। ভারতকে উন্নত অর্থনীতি করতে চান। প্রত্যেক ভারতীয়র জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে চান। লেখক, নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও, অমিতাভ কান্ত।
ভারতের প্রথম ‘গ্রিন ফিল্ড’ শহর গড়ে তোলার যে-উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না– সেই আশা আমি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। সে-সময় আমি ‘দিল্লি-মুম্বই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর সিইও রূপে ভারতের শিল্প-ভিত্তিক নগরায়ণের পরবর্তী ধাপটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলাম। প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; তাঁদের যুক্তি ছিল, এমন প্রকল্পের জন্য ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নির্দিষ্ট করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল একটি বিষয়। এরপর আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলাম। নরেন্দ্র মোদি আমার কথা শুনলেন, ৫ মিনিট সময় নিয়ে ভাবলেন এবং বললেন, ‘১৫০ বর্গকিলোমিটার তো খুবই কম।’
তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘যদি স্বপ্ন দেখতেই হয়, তবে বড় স্বপ্নই দেখো।’ মুখ্যমন্ত্রী মোদি ৭৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেওয়ার প্রস্তাব করলেন। এরপর ২০০৯ সালের মধ্যে গুজরাট সরকার ‘স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন’ (‘এসআইআর’) আইন প্রণয়ন করল এবং ‘মাস্টার প্ল্যান’ বা মহা পরিকল্পনা-সহ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধোলেরা এসআইআর’-এর ঘোষণা করল। সেই প্রথম কথোপকথনটিই তাঁর চিন্তাধারার বিশালতা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিল। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যাপক। তিনি জমিকে কোনও সীমাবদ্ধতা বা কোনও প্রকল্পকে বিচ্ছিন্ন কোনও উদ্যোগ রূপে দেখতেন না। বরং গুজরাট এবং কালক্রমে সমগ্র ভারতের জন্য অগ্রগতির এক নতুন চালিকাশক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। কর্মজীবনে যতজন দূরদর্শী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার নেতার সংস্পর্শে এসেছি– তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিছুকাল পরে দু’টি ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিট’-এ অংশ নিই এবং একটি উন্নত, গতিশীল ও বিশ্বমানের রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অদম্য আগ্রহ ও নিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করি। চেয়েছিলেন গুজরাট যেন এ দেশের সবচেয়ে উন্নত রাজ্যে পরিণত হয়; আর অসাধারণ স্বচ্ছতা ও উদ্দীপনা নিয়ে তিনি সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে গিয়েছেন।
২০১৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রে নতুন সরকার ক্ষমতায় এল। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রূপে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তৎকালীন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি অ্যান্ড প্রোমোশন’-এর সচিব মনোনীত হলাম। বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর তালিকায় ভারতের অবস্থান ১৪২তম দেখে হতাশ হয়েছিলেন। আমাদের একটিমাত্র ‘লক্ষ্য’-র প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন– নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতকে আরও সহজ, সরল ও দক্ষ করে তোলা। এভাবেই বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরে শুরু হল সেই কঠোর কর্মযজ্ঞ। ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড দেউলিয়া বিষয়ক কোড’, পণ্য ও পরিষেবা কর এবং সেকেলে নিয়মকানুন, পদ্ধতি ও আইন বাতিলের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন দফতরের মানসিকতা পরিবর্তন করা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা অবিচল থেকেছি এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি; কারণ খোদ প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফলে ভারত র্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল।
কর্মজীবনে যতজন দূরদর্শী ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার নেতার সংস্পর্শে এসেছি– তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। কিছুকাল পরে দু’টি ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিট’-এ অংশ নিই এবং একটি উন্নত, গতিশীল ও বিশ্বমানের রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অদম্য আগ্রহ ও নিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করি।এর পরপরই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি নিয়ে বেশ কয়েকটি উপস্থাপনা পেশ করি। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ভারতকে যদি একটি উৎপাদনকারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়– তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সমৃদ্ধি, উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সূচনা হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোবাইল ফোন (ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়) ও ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন; ওষুধ শিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সোলার মডিউল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য– সবক্ষেত্রেই এই অগ্রগতি দৃশ্যমান।
তরুণ ভারতীয়দের উদ্যোক্তা রূপে গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। যখন ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভারতে মাত্র ৩৫৬টি স্বীকৃত স্টার্টআপ ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রান্ত। কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী পুরো একটি দিন তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন; তাদের ভাবনার কথা শোনেন, উদ্বেগ বোঝেন এবং প্রথাগত সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে নতুন কিছু ভাবার জন্য তাদের উৎসাহিত করেন। তিনি বোঝেন, উদ্যোক্তা হওয়ার ‘অর্থ’ কেবল ব্যবসা করা নয়, বরং তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস জোগানো এবং আপন শর্তে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে সম্ভাবনার সীমা নেই– এমনকী, আকাশও তাঁর কাছে বাধা নয়। তিনি প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিচক্ষণ একজন নেতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ও সেগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে ভারত ‘এআই’, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি, ড্রোন, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ‘চন্দ্রযান ৩’ এবং ‘আদিত্য এল ১’-এর মতো মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের পাশাপাশি একটি প্রাণবন্ত বেসরকারি মহাকাশ-বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। ভারতের ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ এবং ‘জাতীয় কোয়ান্টাম মিশন’ এআই ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলছে; এমন পরিকাঠামো, গবেষণা পরিবেশ ও দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে– যা ভারতকে প্রযুক্তির সামনের সারিতে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। আবার ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব নিশ্চিত করেন যে, দেশের উন্নয়ন ও শিল্প-প্রসার যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
তরুণ ভারতীয়দের উদ্যোক্তা রূপে গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। যখন ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভারতে মাত্র ৩৫৬টি স্বীকৃত স্টার্টআপ ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রান্ত।এক দশক আগেও দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থ এবং ভারী বা জটিল কার্ডের আধিপত্য ছিল; ডিজিটাল লেনদেন ছিল ধীর গতির ও ব্যয়বহুল, এবং অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা যারা প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহার করছিলেন, তাঁদের নাগালের বাইরে। পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের মূলে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সামগ্রিক প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী নগদবিহীন অর্থনীতির উপর জোর দিলেন; ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোকে শক্তিশালী করে; ‘ইউপিআই’ ব্যবস্থাটি তৈরি ও চালু করা হয় ‘এনপিসিআই’। ব্যাঙ্ক, ফিনটেক সংস্থা, টেলিকম কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃ-পরিচালনযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তিনি ১০০ দিনে ১০০টি ‘ডিজিটাল মেলা’ আয়োজনের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ ‘ইউপিআই’-এর অভাবনীয় বৃদ্ধির নেপথ্যে প্রয়োজনীয় গতিবেগ তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ১.৭৮ কোটি ‘ইউপিআই’ লেনদেন হত, সেখানে এই ব্যবস্থাটি এখন বছরে ২৪ হাজার কোটিরও বেশি লেনদেন পরিচালনা করছে– যা সংখ্যার দিক থেকে ১৩ হাজার গুণেরও বেশি এবং অর্থমূল্যের দিক থেকে ৪ হাজার গুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত। ভারত ৭ বছরেই সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে।
২০১৬ সালের মধ্যেই ‘নীতি আয়োগ’-এর প্রধান রূপে দায়িত্ব গ্রহণ করি। মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি আলাদাভাবে ডেকে ভারতের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির উন্নয়নে কাজ শুরু করতে বলেন। চেয়েছিলেন– সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলির সমাধান আগে করতে। উন্নয়নের সুফল সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কাছেও পৌঁছে দিতে। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ‘আকাঙ্ক্ষী জেলা কর্মসূচি’-র সূচনা হয়; এই কর্মসূচির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার উপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থা প্রত্যক্ষ করি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, এই জেলাগুলোর রূপান্তরই ভারতের রূপান্তর ঘটাবে। ‘আকাঙ্ক্ষী’ শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শও নরেন্দ্র মোদিই দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, মৌলিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অনুন্নত জেলাগুলি উন্নতি ঘটতে শুরু করে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, এই জেলাগুলোর রূপান্তরই ভারতের রূপান্তর ঘটাবে। ‘আকাঙ্ক্ষী’ শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শও নরেন্দ্র মোদিই দিয়েছিলেন।বেশ কয়েকটি সূচকে তারা দেশের সেরা জেলাদের ছাড়িয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই কর্মসূচির উপর নিবিড় নজর রাখতেন। সবসময় জোর দিতেন যেন তৃণমূল স্তরে প্রকৃত ফলাফলের উপরই মূল মনোযোগ বজায় থাকে। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে আমি যেসব বড় শিক্ষা পেয়েছি, তার অন্যতম হল, ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর পর্যালোচনা। ‘নীতি আয়োগ’-এর কাছে প্রত্যাশা থাকত যে, তারা যেন সবসময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসে, বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মূল্যায়ন করে এবং বিস্তারিত উপস্থাপনা করে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতেন, তথ্য আত্মস্থ করতেন এবং এরপর ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চিন্তা করতেন। তাঁর করা প্রশ্ন সবসময়ই বিষয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু স্পর্শ করত।
‘প্রগতি’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পর্যালোচনা এবং ‘পিএম গতিশক্তি’-র মতো সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক পরিকাঠামো উদ্যোগের ফলে প্রকল্পগুলির অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়েছে, এবং কোনও সমস্যা প্রকৃত সংকটে রূপ নেওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে ‘উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহ’ প্রকল্পের সংযোজন দেশের পরিকাঠামো ও উৎপাদন ক্ষমতা সক্রিয়ভাবে সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
অন্য অনেকের চেয়ে বেশি বার তাঁর আমি-ই উপস্থাপনা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি সাক্ষাতেই তাঁর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তীয় গভীরতা, শৃঙ্খলা এবং কৌতূহলের অনন্য সমন্বয় দেখেছি। আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। তা হল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ শ্রোতা। কাউকে চুপ করিয়ে না দিয়ে পুরো সভার মনোযোগ নিজের দিকে ধরে রাখতে পারেন। বৈঠকের সময় নিজের মতামত দেওয়ার আগে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ভারতের ‘জি ২০ শেরপা’ রূপে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর এহেন অভ্যাসটি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ, কোনও বিষয়ে কথা বলার আগে বৈঠকের অধিকাংশ সময় মনোযোগ দিয়ে অন্যদের কথা শুনেছি।
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করে আমি শিখেছি– কীভাবে বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করতে হয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হয়, চাপের মুখেও শান্ত থাকতে হয় এবং পরিস্থিতি যখন হতাশাজনক মনে হয়, তখনও অগ্রগতির সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়।‘নীতি আয়োগ’ থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েছিলাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে ভারতের জি ২০ শেরপা রূপে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। কর্মজীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বটি ফলে কাঁধে তুলে নিলাম। তখন বিশ্ব গভীরভাবে বিভক্ত ছিল, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে এবং কোনও বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভারত সক্ষম।
এই দৃঢ় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই ‘নয়াদিল্লি নেতাদের ঘোষণা’ প্রণয়ন ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আলোচনার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নিবিড় এবং প্রায়শই ক্লান্তিকর; কিন্তু আমরা শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রদর্শিত ধৈর্য ও স্থিরতার আদর্শটিই অনুসরণ করে গিয়েছি। প্রচণ্ড চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রীকে কখনও কণ্ঠস্বর চড়াতে বা মেজাজ হারাতে দেখিনি। সংযমই তাঁর শক্তির উৎস; আর আশাবাদ তাঁর সহকর্মীদের নিজেদের নীতিতে অবিচল থাকার সাহস জোগায়। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করে আমি শিখেছি– কীভাবে বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করতে হয়, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হয়, চাপের মুখেও শান্ত থাকতে হয় এবং পরিস্থিতি যখন হতাশাজনক মনে হয়, তখনও অগ্রগতির সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়। শিখেছি, একজন নেতাকে অবশ্যই এমন কিছু কল্পনা করতে ইচ্ছুক হতে হবে, যা এখনও সামনে আসেনি, এবং সেই কল্পনার নেপথ্যে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জাতির পূর্ণ শক্তিকে একত্র করতে হবে।
১৫০ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে কথোপকথনের সময় তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ শুরু হয়। আধুনিক ভারতের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মূল লক্ষ্য: ভারতকে উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। প্রত্যেক ভারতীয়র জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
আফগানিস্তানকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারত। অভিষেক শর্মার দুরন্ত শতরানের দৌলতে ভারতের তোলা বিরাট স্কোরের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি রশিদ খানরা। আফগান বোলারদের পাড়ার বোলারে পরিণত করে টিম ইন্ডিয়ার বাঁহাতি তারকা ‘পেশির জোর’ দেখিয়ে মাত্র ৩০ বলে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছান। সেঞ্চুরির পর ধ্যানমুদ্রায় বসেন। বিশেষ এই সেলিব্রেশনের ধরন নিয়ে আলোচনা চলছে।
সেঞ্চুরি করার পর মাঠে বসে ধ্যান করার ভঙ্গিতে দেখা যায় অভিষেককে। এমন সেলিব্রেশন দেখে অনেকেই বলছেন, নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হাল্যান্ডের সেলিব্রেশন নকল করেছেন ভারতীয় ব্যাটার। গোল করার পর হালান্ডকে একাধিকবার একই ধরনের ধ্যানের ভঙ্গিতে সেলিব্রেশন করতে দেখা গিয়েছে। যদিও অভিষেক জানিয়েছেন এর মধ্যে হাল্যান্ডকে নকল করার কোনও ব্যাপার নেই। তাহলে কারণ? ম্যাচের পর অনুষ্ঠানে অভিষেক বলেন, “গত ছ’মাস বা তারও বেশি সময় ধরে আমি ধ্যান করছি। সারা বছর ক্রিকেট খেলতে হলে একজন ক্রিকেটারকে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেই সময় নিজের মনকে ঠিক রাখাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ।”
STAY HUMBLE EH
100* of 30 balls
Stream the Afghanistan vs India T20I series LIVE only on FanCode #AFGvIND pic.twitter.com/Y04lGfoe0n
— FanCode (@FanCode) September 17, 2026
এর পরেই ধ্যানের উপকারিতার কথা জানান ভারতীয় ওপেনার। তাঁর কথায়, “সেটা সামলানোর জন্য ধ্যান করতে হয়। আমার ক্ষেত্রে ধ্যান খুব কাজ করে। তাই সেঞ্চুরি করার পর ধ্যানের সেলিব্রেশন করেছি।” শুধু নিজের জন্য নয়, তাঁর এই সেলিব্রেশনের পিছনে রয়েছে আরও একটি উদ্দেশ্য। অভিষেক বলেন, “আমি চেয়েছিলাম, আমাকে দেখে যেন কেউ এটা অনুসরণ করে।” অর্থাৎ, হালান্ডের সেলিব্রেশনের সঙ্গে অভিষেকের সেলিব্রেশ্নের মিল থাকলেও ভারতীয় ওপেনারের কাছে এর অর্থ আলাদা। মনকে শান্ত রাখার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, অভিষেকের সেঞ্চুরির সঙ্গে তৈরি হয় নতুন ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও ভারতীয়ের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড এখন অভিষেকের। এত দিন ৩৫ বলে শতরান করে সেই রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৭ বলে শতরান করে তালিকায় এর পরেই ছিলেন অভিষেক নিজেই। এবার সমস্ত রেকর্ড একার হাতে ভেঙে দিলেন বাঁহাতি তারকা। কেবল ভারতীয় ক্রিকেট নয়, পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যেও দ্রুততম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরানের রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন অভিষেক। এর আগে ৩৩ বলে শতরান করে রেকর্ডটি ছিল ফিন অ্যালেনের।
জোড়া ধাক্কা! প্রথমে ঘাসফুল প্রতীক, তারপর প্রার্থী খোয়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে নাম তুললেন কালীঘাটপন্থী শিবিরের প্রার্থী তথা শিক্ষিকা সঞ্চিতা প্রধান দে। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে আর মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ আর লড়াইয়ে থাকছেন না। শুক্রবার ঘাসফুল প্রতীক হাতছাড়া হতেই স্বামী সত্যজিতের সঙ্গে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সঞ্চিতা। আর তাতেই চিত্র খানিকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে কার্যত নন্দীগ্রাম আসনটি বিজেপিকে ওয়াকওভার দিয়ে দিচ্ছেন মমতার প্রার্থী! কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সত্যি করে মনোনয়ন তুললেন সঞ্চিতা।
প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে বৃহস্পতিবার রাতে ময়দানে পিডব্লুডি টেন্টে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক সেরেছিলেন নন্দীগ্রামে মমতার মনোনীত প্রার্থী। এরপর শুক্রবার ঘাসফুল প্রতীক মমতা ও ঋতব্রত – দু’পক্ষের হাতছাড়া হতেই সঞ্চিতা স্বামী সত্যজিৎ প্রধানকে নিয়ে নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। তারপরই হলদিয়ায় ফিরে মহকুমা দপ্তরের অফিসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন। ১৮ সেপ্টেম্বর, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সঞ্চিতা প্রধান দে’র, সঙ্গী স্বামী। নিজস্ব ছবিউপনির্বাচনের আগে অতর্কিতেই ‘অপারেশন নন্দীগ্রাম’। প্রথমে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জেলার অভিজ্ঞ নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরির প্রার্থী হওয়া নিয়ে বেশ জল্পনা ঘনিয়ে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকেও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অখিল গিরি জানান, তিনি নন, স্থানীয় স্তরের কোনও নেতাকে প্রার্থী করা হোক। তাঁর মতামতকে মান্যতা দিয়ে স্থানীয় শিক্ষিকা তথা দীর্ঘদিন আদি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেন মমতা। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সঞ্চিতা প্রচারেই নামেননি। হয়ত প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তা ছিল। যদিও প্রতীক-ফয়সালার পর সঞ্চিতার ভূমিকায় স্পষ্ট, তাঁর ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল।
১৮ সেপ্টেম্বর, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার মমতার প্রার্থী সঞ্চিতারপ্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে বৃহস্পতিবার রাতে ময়দানে পিডব্লুডি টেন্টে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক সেরেছিলেন নন্দীগ্রামে মমতার মনোনীত প্রার্থী। এরপর শুক্রবার ঘাসফুল প্রতীক মমতা ও ঋতব্রত – দু’পক্ষের হাতছাড়া হতেই সঞ্চিতা স্বামী সত্যজিৎ প্রধানকে নিয়ে নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। তারপরই হলদিয়ায় ফিরে মহকুমা দপ্তরের অফিসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন। কেন আচমকা লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন? এনিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি তাঁর।
শুক্রবারের প্রার্থনার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ খাইবার পাখতুনখোয়ায়। নিহত অন্তত ১৫। আহত বহু। মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে জুম্মাবারের নমাজের সময় ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’-এর কাছে আচমকাই এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’-এর গেটে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। এবং এরপরই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে মসজিদের বাইরে একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের বাইরের অংশের ক্ষতি হয়ে একটি দেওয়ালও ধসে পড়ে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ২৫ জন আহতকে কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন। হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ শুরু করে বলে জানা গিয়েছে।
তল্লাশি ও এলাকা নিরাপদ করার কার্যক্রম চলাকালীন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, এবং ওই এলাকার চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মীও মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরণ এতই জোরালো ছিল, আশপাশের বাড়িগুলিরও ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও এর নেপথ্যে কারা, তা শনাক্ত করার বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিস্ফোরণের পর গোলাগুলির শব্দও শোনা গিয়েছে। পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, আরও তথ্য শিগগিরি তদন্তকারীদের হাতে আসবে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একই ভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছিল কয়েক মাস আগে। সেবার গাড়িবোমা বিস্ফোরণে মহিলা, শিশু-সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে মৃতদের দেহ। আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তত চারজন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বিদ্রোহী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে পাক সেনার সংঘর্ষ বছরভর লেগে রয়েছে। বিদ্রোহীদের দাবি, পাকিস্তানে তারা অবহেলিত। স্বাধীন খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বপ্ন দেখে তারা। অন্যদিকে পাক সেনার দাবি, আফগান মদতে পাকিস্তানকে অস্থির করছে জঙ্গিরা। তবে এবারের বিস্ফোরণের নেপথ্যে কে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে।
একদিকে দেশে জন্ম রেকর্ড তলানিতে, অন্যদিকে ১০০ বছর পেরনো মানুষের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। জাপানের জনসংখ্যার ছবিতে এই অদ্ভুত বৈপরীত্যের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৭৭। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব বলছে, মাত্র এক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ৭,৯১৪। শতায়ুদের প্রায় ৮৮ শতাংশই মহিলা। দীর্ঘায়ুর দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম নজির তৈরি করা জাপানে তাই প্রশ্ন উঠছে, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ার পিছনে আসল রহস্যটা কোথায়?
পরিসংখ্যানটি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাপান পালন করছে প্রবীণদের সম্মানে বিশেষ দিন ‘রেসপেক্ট ফর দ্য এজেড ডে’। কিন্তু দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশেই রয়েছে জনসংখ্যার আরেকটি উদ্বেগজনক ছবি। ২০২৫ সালে জাপানি নাগরিকদের মধ্যে জন্মের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৬-এ, যা নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড। ফলে একদিকে বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা, অন্যদিকে কমছে নতুন প্রজন্মের সংখ্যা।
১০০ পেরিয়েও সুস্থ! ছবি: সংগৃহীতপ্লেটে কী থাকে?
জাপানিদের দীর্ঘায়ুর আলোচনায় সবার আগে আসে খাদ্যাভ্যাস। মুকোগাওয়া উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার্ল্ড হেলথ ডেভেলপমেন্ট-এর ডিরেক্টর ডা. ইউকিও ইয়ামোরির মতে, দীর্ঘ জীবনের অন্যতম ভিত্তি হতে পারে জাপানি খাবারের ধরন।
দ্বীপদেশ হওয়ায় মাছ ও সামুদ্রিক খাবার জাপানিদের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছে। ফলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার থেকে ম্যাগনেশিয়াম ও টরিনও পাওয়া যায়। ভাত এবং সয়া-ভিত্তিক খাবারও জাপানি খাদ্যসংস্কৃতির অঙ্গ। তুলনামূলক কম কোলেস্টেরলযুক্ত এই খাদ্যাভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি কম রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে নুনেই সমস্যা
জাপানি খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাও রয়েছে। সয়া সস, মিসো এবং অন্যান্য নোনতা উপাদানের কারণে সোডিয়াম গ্রহণ অনেক সময় বেশি হয়ে যায়। একই সঙ্গে দুগ্ধজাত খাবার তুলনামূলক কম খাওয়ার কারণে ক্যালশিয়াম গ্রহণও কম হতে পারে।
জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকির পার্থক্যও এই বিষয়টিকে সামনে আনে। ডা. ইয়ামোরির উল্লেখ করা আঞ্চলিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশি নুন খাওয়ার প্রবণতা থাকা আওমোরি প্রিফেকচারে স্ট্রোক ও পাকস্থলীর ক্যানসারে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে কম নুন খাওয়ার অঞ্চল ওকিনাওয়ায় পরিস্থিতি আলাদা।
সুস্থ জীবনের সঙ্গী শরীরচর্চা। ছবি: সংগৃহীত‘থ্রি এস’-এর সূত্র
দীর্ঘায়ুর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক বোঝাতে ডা. ইয়ামোরি দিয়েছেন ‘থ্রি এস’ সূত্র। তাঁর পরামর্শের মূল কথা হল, নুন কমাতে হবে, সামুদ্রিক খাবার বাড়াতে হবে এবং সয়া বেশি রাখতে হবে। সয়া-জাতীয় খাবারে থাকা আইসোফ্লাভোন নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। এই উপাদান কোষের স্বাভাবিক পুনর্গঠন এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
হাঁটাচলা, পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ
তবে শুধু প্লেটে কী রয়েছে, তা দিয়েই দীর্ঘায়ুর পুরো গল্প লেখা যায় না। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং মানসিক সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ুপ্রবণ জনসংখ্যা হংকংয়ের উদাহরণ টেনে ডা. ইয়ামোরি দেখিয়েছেন, সেখানেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে দৈনন্দিন চলাফেরাতেও শরীর সক্রিয় থাকে।
অর্থাৎ, শতায়ু হওয়ার কোনও একক ‘ফর্মুলা’ নেই। বরং খাবারে সংযম, বেশি মাছ ও সয়া, কম নুন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ভিত গড়ে দিতে পারে। আর জাপানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এখানেই। দীর্ঘ জীবন শুধু কত বছর বাঁচলাম, তার হিসাব নয়। সেই বছরগুলো কতটা সক্রিয়, সুস্থ ও অর্থপূর্ণভাবে কাটল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
হাউথির ভয়ংকর যুদ্ধে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছিল সৌদি আরব। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদকে সাহায্যের বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। এরইমাঝেই জানা গেল, নিজেদের জ্বালানি তেলের আমদানিতে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে সেই লক্ষ্যে হাউথিদের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে ওয়াশিংটন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর অর্থ হল সৌদিকে চোরাবালিতে ফেলে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে আমেরিকা।
গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবে ভয়ংকর হামলা শুরু করেছে ইরান সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা। বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ও মোখা বন্দর এখন হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজে ঝুঁকি বাড়ায় এই প্রণালীই এখন সৌদির তেল রপ্তানির প্রধান পথ। আপাতত যা বন্ধ। সৌদির একের পর এক শহরে চলছে হামলা। মক্কাতেও বেজে উঠেছে সাইরেন। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আমেরিকার সাহায্য চাইলেও আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা সরাসরি হামলা করবে না। এই ইস্যুতে গত রবিবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আমেরিকার দূতাবাসে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে হাউথির। সেখানে হাউথিরা জানিয়েছে, মার্কিন জাহাজে তারা কোনও হামলা করবে না এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধ বিরতি মেনে চলবে তারা।
আমেরিকা জানিয়েছে, সৌদিকে শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে তারা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা ও হাউথিদের মধ্যে এক অলিখিত বোঝাপড়া হয়েছে।বৈঠকের কথা স্বীকার করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, “আমরা হাউথিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, হাউথির মারে জর্জরিত হয়ে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে দু’বার ফোন করেন এবং হাউথিদের উপর বিমান হামলার আর্জি জানান। কিন্তু সে আবেদন খারিজ করেন ট্রাম্প। আমেরিকা জানিয়েছে, সৌদিকে শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে তারা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা ও হাউথিদের মধ্যে এক অলিখিত বোঝাপড়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী থেকে জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না, কিন্তু সৌদির জাহাজ এখন এই প্রণালীতে নিষিদ্ধ।
এদিকে হাউথির মারে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে রিয়াদের। রিপোর্ট বলছে, তাদের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। এই অবস্থায় তারা ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে এয়ার ডিফেন্স সাহায্য চেয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য। তাদের অবস্থান এখন ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’। হাউথির বিরুদ্ধে মুখে বড় বড় বুলি ছুটলেও, ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তারা। এই অবস্থায় সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে হাউথিদের কাছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
গণপতি উৎসবের জন্য মায়ানগরীজুড়ে সাজ সাজ রব। আর এমন উৎসবের মরশুমেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা! খুদে ভক্তের পায়ের উপর দিয়ে চলে গেল সলমন খানের গাড়ির চাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে ভিড়ের মাঝে গাড়়ি থেকে নেমে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন ভাইজান।
ঠিক কী ঘটেছে? গণপতি উৎসব উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আশীর্বাদ নিতে রাজনীতিবিদ আশিস শেলারের বাসভবনে গিয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার। সেখানেই ভক্তদের ভিড়ে তিনি এমনভাবে আটকে পড়েন যে, অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে আসাই দায় হয়ে ওঠে সলমনের। তবে কোনওমতে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে বেরতে পারলেও এক অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হল ভাইজানকে। সোশাল পাড়ায় ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, সুপারস্টার ভাইজানকে একঝলক দেখার জন্য শয়ে শয়ে ভক্ত তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেছিলেন। ফলত, ভিড়ের মধ্যে গাড়িটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ভিড় সামাল দিতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদেরও বেগ পেতে হচ্ছিল। এহেন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে যখন চালক গাড়িটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন এক ভক্তের পা গাড়ির নিচে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই ওই খুদে অনুরাগী যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে। তৎক্ষণাৎ গাড়ির চালককে ধমক দেন সলমন। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় তিনি চালককে ভিড় থেকে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেন। আর এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নেটভুবনে ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এই ঘটনার পরই সলমন প্রথমে শিশুটিকে ভিড়ের মধ্য থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করেন। তারপর সেখান থেকে বের হন।একাংশ গোড়ায় সলমনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কিংবা ‘অমার্জিত, অভব্য’ বলে দাগিয়ে দিলেও আরেকাংশ ভাইজানের প্রশংসা করেছেন। কারণ এতে প্রথমত তাঁর কোনও দোষই ছিল না। দ্বিতীয়ত, এহেন ঘটনার জন্য প্রকাশ্যেই গাড়ির চালককে বকাঝকা করতে ছাড়েননি তিনি। নেটভুবনের কেউ কেউ আবার মদ্যপ সলমনের ফুটপাথ বাসিন্দাদের পিষে দেওয়ারস্মৃতিও মনে করিয়ে দিলেন। আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, এই ঘটনার পরই সলমন প্রথমে শিশুটিকে ভিড়ের মধ্য থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করেন। তারপর সেখান থেকে বের হন।
Why Salman Khan is scolding his driver like this.
Just few moments before he was showing too much simplicity and humbleness in him pic.twitter.com/0h8SiJnTHp
— Gagan Choudhary (@trigguuuu) September 18, 2026
দীর্ঘ প্রতীক-যুদ্ধে আপাতত ইতি। ভোটের আগেই অতীত হয়েছে ‘তৃণমূল’। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে মমতার। এবার কি তবে হাতের বাইরে নন্দীগ্রামের প্রার্থীও? উপনির্বাচনের আগে এই প্রশ্ন উসকে দিল শুক্রবার সকালের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে নতুন নাম-প্রতীক চূড়ান্ত হতেই নবান্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতে পৌঁছে যান নন্দীগ্রামের মমতাপন্থী প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান। সূত্রের খবর, অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেই এদিন নবান্নে প্রবেশ করেন তিনি। দেখা করে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, সঞ্চিতা ঘনিষ্ঠমহলে দাবি করেন, ভোটের লড়াইয়ের আগে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন তিনি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ঋত শিবির। তবে সে প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করে মমতা শিবির। নন্দীগ্রামে তাঁর বাজি সঞ্চিতা প্রধান দে। জানা গিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল। কেন তাঁকে প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হল, তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরে শুরু হয় জোর চর্চাও। পবিত্র করের বুথ এলাকায় বাস করতেন সঞ্চিতা প্রধান দে-র। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম বয়াল ২ এলাকায় থাকতেন। যদিও বর্তমানে তিনি তমলুকে থাকেন। বছর চল্লিশের এই সঞ্চিতা বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। জল গড়িয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও। পরে যদিও ‘সুপ্রিম’ হস্তক্ষেপে চাকরি ফিরে পান সঞ্চিতা।
শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। গত ২০১৮-২৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যেহেতু সঞ্চিতা স্থানীয় বাসিন্দা তাই তাঁকে প্রার্থী হিসাবে বেছে নিতে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। অবশ্য মমতা শিবিরের কারও তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ছাব্বিশের ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-দুটি কেন্দ্রেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তে হতো তাঁকে। নিজের গড় নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু। উপনির্বাচনে সেই আসনেই মমতাপন্থী তৃণমূলের তুরুপের তাস সঞ্চিতা। এবার মমতার শিবির নতুন নাম-প্রতীক পেতেই প্রকাশ্যে এল নতুন টুইস্ট! রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি এবার ‘ফুটবলার’ সঞ্চিতার হাত ধরে খেলা ঘুরবে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে?
ফ্যাশন র্যাম্পে হাঁটছেন মডেলরা, হাতে একরত্তি ছোট্ট ব্যাগ। ব্যাগ ভর্তি রংচঙে সুতোর কাজ, আর খুদে আয়নার টুকরো বসানো। চোখে পড়ার মতো বটে। কারণ পাশ্চাত্য ফ্যাশনে সাধারণত এত রঙের আধিক্য থাকে না। কালো, সাদা, বেইজ, ধূসর— এমন সব রঙই চোখে পড়ে বেশি। ফলে ফ্যাশনপ্রেমীদের জিজ্ঞাসু চোখ ঘিরে ধরে ব্যাগটিকে (Fendi’s ₹8.3 Lakh Baguette Bag)।
গুজরাটের রাবারি এলাকার মহিলারা হাতেই বোনেন এমন আয়না ও সুতোর নকশা।এই ব্যাগের নির্মাতা ইতালীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ফেন্ডি, সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এটি। একটি নয়, এ ধরনের বেশ কিছু ডিজাইন রাখা হয়েছে সেখানে। প্রতিটিতেই দেখা যাচ্ছে রঙিন সুতোর নকশা আর মিরর-ওয়ার্ক। সূত্র জানায়, এই ব্যাগের দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করেছে ফেন্ডি। এটি আদতে ফেন্ডির জনপ্রিয় ‘ব্যাগেট’ ব্যাগেরই একটি মিরর-ওয়ার্ক সংস্করণ।
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গেই শুরু হয়েছে বিতর্কও। অনেকেই এই ব্যাগের নকশার সঙ্গে মিল পেয়েছেন গুজরাটি মিরর-ওয়ার্কের। গুজরাটের কচ্ছে বসবাসকারী রাবাড়ি সম্প্রদায়ের মহিলারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সূচিশিল্পের কৌশল ধরে রেখেছেন। তাঁদের পোশাক, ব্যাগ, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীতে দেখা যায় রঙিন সুতোয় তৈরি জটিল নকশা এবং ছোট ছোট আয়নার ব্যবহার। শুধু সাজসজ্জা নয়, এই কারুশিল্প বহু পরিবারের কাছে একমাত্র জীবিকা। তাদের সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশও বটে।
ফেন্ডির ব্যাগটি ঘিরে মূল প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সমালোচকদের দাবি, ব্যাগের নকশায় ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও সেই কারুশিল্পের উৎস বা কারিগরদের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে— কোনও স্থানীয় বা আদিবাসী শিল্পরীতিকে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল পণ্যে ব্যবহার করা হলে তার সাংস্কৃতিক উৎসের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কি না।
বলা বাহুল্য, প্রায় একই ধরনের কারুকাজের ব্যাগ গুজরাট বা ভারতের অন্যান্য জায়গায় বড়জোর ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়। যদিও ফেন্ডির ব্যাগকে সরাসরি সেই পণ্যের সমতুল্য বলা যায় না। তবুও এই বিশাল মূল্যবৈষম্য লাভের বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রাডা নির্মিত কোলাপুরি চপ্পল ঘেঁষা সংস্করণটি।ফ্যাশনের জগতে এই ঘটনা নতুন নয়। বছরখানেক আগে ইতালীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডা বাজারে এনেছিল ছিমছাম এক চপ্পল, যা হুবহু ভারতের কোলাপুরি চপ্পলের মতো দেখতে। সেখানেও এই প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকে কোনও ধরনের ক্রেডিট দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে যথেষ্ট হুলুস্থুল হওয়ায়, পরবর্তীকালে ভারতীয় শিল্পকে সম্মান জানিয়ে ২০০০ জোড়া ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ জুতো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেন্ডি নির্মিত ব্যাগটি নিয়েও যথেষ্ট শোরগোল বেধেছে সোশাল মিডিয়ায়। শেষ অবধি কী ঘটে, তাই এখন দেখার।
রেলের সাদা চাদর স্যুটকেসের ভিতরে! স্টেশনে বামাল ধরা পড়েও রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে উঠতে দেখা গেল এক দম্পতিকে। বিশেষত গৃহবধূকে। ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এমনই এক ভিডিও! যাকে ঘিরে নিন্দার ঝড় নেটপাড়ায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ওই মহিলার স্বামী স্যুটকেসটি খুলেছেন। ভিতরে দেখা যাচ্ছে রেলের বেডশিট। মহিলার কোলে ছিল একটি শিশু। তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি চলছে। কেন তিনি এই কাজ করেছেন, এর জবাবে মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ”আপনাকে তো বললাম কেন এটা করেছি। আমাদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।” কে নিয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলে ওঠেন, ”টিকিট চেকার।” তাঁকে বারবার বলা হতে থাকে কেন তিনি ও তাঁর স্বামী এমন কাজ করেছেন। এতে লজ্জিত না হয়ে ওই মহিলাকে বলতে দেখা গিয়েছে, ”আমরা তো ফিরিয়েই দিচ্ছি।”
Couple steals railway bedsheets, claiming the TTE charged them extra money
Look at the way she’s arguing.
Ek to chori, upar se seena jori.
Source: @thetatvaindia pic.twitter.com/pPeX8Q0DFy
— ShoneeKapoor (@ShoneeKapoor) September 17, 2026
গোটা ঘটনার সময় মহিলার স্বামীকে হাসতে দেখা যাচ্ছে। তিনি ক্যামেরা বন্ধ করারও আর্জি জানাতে থাকেন। যিনি ভিডিও করছিলেন তিনি বলতে থাকেন, ”এমন কোরো না।” ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় সবটাই দেখা গিয়েছে। সেখানে ক্যাপশনে লেখা রয়েছে- ‘দেখুন ওঁদের হাসি। হাতেনাতে ধরা পড়েও আক্ষেপ বা লজ্জার কোনও চিহ্নও নেই!’
ভিডিও দেখে অনেকই নিন্দায় মুখর হয়েছেন। ‘ধরা পড়ার পরেও সে সেই লোকটিকে বকাঝকা করছে যে তাকে চুরি করতে ধরেছে।’ আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘লজ্জাজনক!’ একটি মন্তব্যে লেখা, ‘এই লোকগুলোকে এক সপ্তাহের জন্য জেলে পাঠানো উচিত।’ আরেকজন নেটিজেনের মত, ‘আমি কখনওই বুঝতে পারি না যে অপরাধ করার পরেও কিছু মানুষ এভাবে নির্দোষ থাকে কী করে?’
অপেক্ষার অবসান। একসঙ্গে আইফোন ১৮ সিরিজের দুটি ফোন ভারতে লঞ্চ করল সংস্থা। এই সিরিজের একটি ফোন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। প্রতি আইফোন স্টোরের সামনে সকাল থেকে লম্বা লাইন। ভারতে আইফোন ১৮ লঞ্চকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনার স্রোতে গা ভাসাতে নারাজ অভিনেতা-সমাজকর্মী সোনু সুদ। তাঁর মতে, শুধু স্মার্টফোন আপগ্রেড করার পরিবর্তে সমাজের উন্নতির কথা ভাবা প্রয়োজন।
আইফোন স্টোরগুলির সামনে উপচে পড়া ভিড়ের ছবি শেয়ার করে এক্স হ্যান্ডলে সমাজের উন্নতির জন্য সকলকে আহ্বান জানান। সমাজমাধ্যমের পোস্টে আইফোন ‘পাগলু’দের খোঁচা, ‘নতুন ফোন, নতুন ইএমআই। কিন্তু, বিল সেই পুরনো! এবার শুধু ফোন আপগ্রেড করার জন্য নয় বরং একটা পরিবর্তন আনার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। প্রকৃত আপগ্রেড হল আরও ভালো সমাজ গঠন।’
New phone, new EMI… same old bills! Maybe it’s time we queue up to make a difference, not just upgrade our phones. The real upgrade is a better society. pic.twitter.com/WBVDzGrbaV
— sonu sood (@SonuSood) September 18, 2026
ভারতে ১৮ সেপ্টেম্বর আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বিক্রি শুরু হওয়ার পরই সোনুর এই পোস্টটি সোশাল মিডিয়ায় সকলের নজর কেড়েছে। নেটপাড়ার সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্যনীয়। অনেকেই অভিনেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন। এক নেটিজেন সোনু সুদের মন্তব্যের সমর্থনে লেখেন, ‘সত্যি কথা তেতো। কিন্তু এটাই ঘোর বাস্তব। হাতে দেড় লাখি ফোন নিয়ে শুধু রিলস স্ক্রল করা হচ্ছে। চাহিদা মেটাতে মধ্যরাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দেশের যুবসমাজ যদি সমাজ পরিবর্তনের জন্যও একইরকম উৎসাহ নিয়ে লাইনে দাঁড়াত, তাহলে ভালো লাগত!’
আরেকজনের মন্তব্য, ‘এটা আসলে একটা ভাইরাস। দুঃখের বিষয়, এর কোনও প্রতিকার আমাদের কাছে নেই।’ নেটপাড়ার অুর এক সদস্যের মতে, ‘আমাদের উচিত এই বিলের বোঝা কাঁধে নেওয়ার পরিবর্তে সমাজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। এটাই আসল কথা।’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আরও ১০০টি-কে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। অনুমোদনহীন, ভুয়া মাদ্রাসা নিয়ে বাম আমলে কম বিপাকে পড়তে হয়নি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, বেআইনি কার্যকলাপ রোধে, শিক্ষাব্যবস্থাকে সুঠাম করতে হবে। মাদ্রাসা অভিযান দেশের মুসলিম স্বার্থের পরিপন্থী নয়। এমন ভাবনা একপেশে ও অতি-সরলীকৃত। লিখছেন জয়ন্ত ঘোষাল।
নভেম্বর, ২০০০। জ্যোতি বসুকে সরিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। দিল্লিতে তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি। একদিন বুদ্ধবাবু নর্থ ব্লক তঁার দফতরে এসে বললেন, ‘আচ্ছা আদবানিজি, আপনি মহারাষ্ট্র ও গুজরাত-সহ এ-দেশের বহু রাজ্যে আইএসআই তৎপরতা বৃদ্ধির কথা বলছেন। বেআইনি মাদ্রাসার মাশরুম চাষ হচ্ছে বলছেন। কিন্তু আপনি পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কিছু বলছেন না কেন? আমার কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট আসছে। রাজ্যের পরিস্থিতি খুব খারাপ।’
মুচকি হেসে দেশের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার কাছেও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তথ্য আছে। কিন্তু বলি না কেন বলতে পারেন? বললে, যদি আপনি ‘ডিনাই’ করেন। আমি চুপ করে থাকতে চাই না। জানি, পশ্চিম বাংলার কী অবস্থা! কিন্তু প্রকাশ্যে আপনি অস্বীকার করলে কার লাভ? সন্ত্রাসবাদীদেরই লাভ হবে।”
মনে পড়ে, ২০০৩ সালের ৬ মার্চ বুদ্ধবাবুর সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের কথা। সেদিন আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি মাদ্রাসার রমরমা।তখন বুদ্ধবাবু খুব জোরালোভাবে বলেন, অস্বীকার করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আপনি প্রকাশ্যে বলুন। আমিও প্রকাশ্যে বলব। পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষত সীমান্তে, জাতীয়তাবাদ বিরোধী সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিয়ে জঙ্গিরা সক্রিয় হচ্ছে। ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ চলছে। এসব বন্ধ করতে হবে।
এল কে আডবাণী তঁার আত্মজীবনী, ‘মাই কান্ট্রি, মাই লাইফ’ বইয়ে এ ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা. ৬৩৮)। এও লিখেছেন যে, কলকাতায় একবার বুদ্ধবাবু তঁার সঙ্গে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’ নিয়ে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন। বুদ্ধবাবুর আগে জ্যোতিবাবু এই অবস্থান নেননি। ’৯৮ সালে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-বিজেপি সরকার প্রায় ৮০ জন ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’-কে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে চায়। জ্যোতিবাবুর সরকার তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বুদ্ধবাবু তো বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে বলেই বসেন যে, সীমান্ত জেলাগুলির মাদ্রাসার একাংশ মৌলবাদী সন্ত্রাসের অঁাতুড়ঘর হয়ে গিয়েছে।তবে বুদ্ধবাবু অবশ্য শেষ পর্যন্ত তঁার এই ব্যক্তিগত কঠোর অবস্থানে অটুট থাকতে পারেননি। আদবানি লিখেছেন, ‘I found a rare Communist leader, whose views on ISI-guided cross border terrorism and its ideological roots were, to a fair degree, congruent with mine.’ কিন্তু মাদ্রাসায় বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করতে গিয়ে বুদ্ধবাবু বিপদে পড়লেন। ২০০২ সালের ২৯ জুন এল. কে আডবাণী উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। এখনও মনে পড়ে, ২০০৩ সালের ৬ মার্চ বুদ্ধবাবুর সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের কথা। সেদিন আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি মাদ্রাসার রমরমা। পাক সন্ত্রাসবাদীরা কীভাবে এসব মাদ্রাসায় জঙ্গিঘঁাটি তৈরি করছে– তা নিয়ে।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বুদ্ধবাবু তো বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে বলেই বসেন যে, সীমান্ত জেলাগুলির মাদ্রাসার একাংশ মৌলবাদী সন্ত্রাসের অঁাতুড়ঘর হয়ে গিয়েছে। ব্যস! বুদ্ধবাবুর বিরুদ্ধে জামাত বাহিনী প্রতিবাদে মুখর হয়! পার্টি বিরক্ত হয়। বুদ্ধবাবু শিলিগুড়ি গিয়েও একই কথা বলেন। তখন বিমান বসু বলেন, বুদ্ধর বক্তব্য সংবাদপত্রে বিকৃত করা হয়েছে। মাদ্রাসা বন্ধ হবে না।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ‘বেআইনি’ মাদ্রাসা নিয়ে কখনও কোনও মন্তব্য করেননি। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সংসদে জানায়– বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু মাদ্রাসায় জঙ্গি কার্যকলাপের খবর আছে। বিধানসভায় এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র আমাদের কাছ থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে জানতে চায়। আমরা কেন্দ্রকে জবাব দিয়েছি। কিন্তু কেন্দ্র আমাদের জবাবকে গ্রহণ করে না! ওদের কথাই ওরা বলে। মমতা বলেন, বিজেপি সবকিছুতে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।
একইভাবে ২০১৫ সালে মমতা বলেছিলেন, যেসব মাদ্রাসা নথিভুক্ত নয়, যারা টাকা পায় না, তাদেরও স্বীকৃতি দেব আমরা। ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে মাদ্রাসা সমীক্ষা করার ব্যাপারে মমতা বলেছিলেন, ওদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিসাধন দরকার, কিন্তু ওদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাক গলাব না। অতীতের কাহিনিতে ইতি টেনে এবার বর্তমানের কথা বলি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেই ‘বেআইনি’ মাদ্রাসা নিয়ে সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, অনেক রেজিস্ট্রিভুক্ত মাদ্রাসাতেও ছাত্র নেই, শিক্ষক নেই। যেমন: হুগলির হরিপালে মাদ্রাসার জমিতে কলাবাগান ভূতুড়ে বাড়ি। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরেও এমন মাদ্রাসার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
শুভেন্দু যা বলছেন, যা করছেন, সেটি নতুন কোনও রকেট সায়েন্স নয়। এ তো বিজেপির সুপ্রাচীন মতাদর্শগত অবস্থান। মনে করুন, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেও বাংলায় এসে নরেন্দ্র মোদী ‘সীমান্তে অনুপ্রবেশ’ নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। মোহন ভাগবত তথা সংঘ পরিবারও চিরকাল এ বিষয়ে বলেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষাপ্রদান একটি সুপ্রাচীন বিষয়। ধর্মীয় এবং শিক্ষাগত কারণে হজরত মহম্মদের সময় থেকে মদিনায় শুরু হয়। দশম শতাব্দীতে বাগদাদে মাদ্রাসা আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়। আরবি ভাষায় ‘মাদ্রাসা’ শব্দের অর্থই হল– শিক্ষাক্ষেত্র। কিন্তু এই শিক্ষার আড়ালে যদি সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে সেই দেশবিরোধী কাজকে কীভাবে সমর্থন করা যায়?
বাজপেয়ী ও আডবাণী জুটি যা করতে পারেনি, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে মোদি ও শাহ জুটি যা করতে পারেনি, এখন যদি কেন্দ্রের সহায়তায় শুভেন্দু সরকার তা করতে সক্ষম হয়, তবে তাঁকে তো দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকের সমর্থন জানান প্রয়োজন। ১৯৯৩ সালে ১৫ মার্চ মুম্বই বিস্ফোরণের পর পশ্চিম উপকূলবর্তী এলাকায় ভারতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় ‘আইএসআই’ কৌশল বদলে পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকায় জোর দেয়! বাংলাদেশকে ‘বাফার’ বানিয়ে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চল, বিশেষত বাংলা সীমান্ত দিয়ে, জঙ্গি অনুপ্রবেশ করানোর কৌশল নেয়। কঁাটাতারবিহীন সীমানা দিয়ে জঙ্গি ঢুকে দেশের নানা প্রান্তে এমনকী কাশ্মীরে পর্যন্ত যেতে শুরু করে। এখন রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সন্ত্রাসদমনে যদি শুভেন্দু সরকার সফল হয়, তাতেই বাংলার মঙ্গল। প্রয়োজন ঐকমত্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর ১০০টি মাদ্রাসায় শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে যে-সমীক্ষা হয়েছে, দেখা যাচ্ছে, সরকারি রেজিস্ট্রেশনের বাইরেও রয়েছে বেশ কিছু ‘ভুয়া’ মাদ্রাসা, যাদের অনুমোদন নেই, পরিকাঠামো নেই– অথচ তারা স্বঘোষিত মাদ্রাসা চালাচ্ছে। সেখানে কী হয় বা না হয়, তা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, সমীক্ষায় করে, কোনটি ‘বৈধ’ আর কোনটি ‘অবৈধ’– তার বিচার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, একটাই রাষ্ট্র, তাতে একটাই শিক্ষাব্যবস্থা থাকা উচিত। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০২ সালে যে-কাজ করতে পারেননি, ২০২৬ সালে শুভেন্দু অধিকারী সেই রাস্তায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ করছেন।
এ দেশের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার শিকড় অনেক গভীরে। হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার জন্য মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদ, না কি মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ব্যবহারের জন্য হিন্দুত্বের আন্দোলনের বিকাশ মাথাচাড়া দিয়েছে– এই বিতর্ক এখনও। কিন্তু এই মাদ্রাসা অভিযান কোনওভাবে দেশের মুসলমান-বিরোধী অভিযান নয়। এমন মনে করলে তা হবে অতি-সরলীকরণ। মনে রাখতে হবে, ‘অবৈধ’ মাদ্রাসায় যদি ‘সন্ত্রাসবাদী’ কার্যকলাপের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, এবং সে-বিষয়ে গোয়েন্দারা যদি প্রামাণ্য তথ্য দেন, তবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেও জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ব্রিক্স’ সম্মেলনেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। কিছু দিন আগে সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকেও কার্যত পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দঁাড় করিয়ে তিনি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’-মুখো নীতি রাখা চলবে না। একদিকে সন্ত্রাসদমনের কথা বলা হবে, অন্যদিকে সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা হবে– ভারত এমন নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। ফলে শুভেন্দু অধিকারী যে-কথা বলছেন, বা যা করছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাসদমন নীতির সঙ্গে সরাসরি সাযুজ্য রক্ষাকারী।
(মতামত নিজস্ব)
কাবুলে অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখতে দেখতেই হিন্দি শেখা। সেই ভাষাতেই এবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ধারাভাষ্য দিয়ে চমকে দিলেন আফগানিস্তানের শরাফউদ্দিন শাকির। পাশে বসে কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর মুগ্ধ হয়ে দেখালেন থাম্বস-আপ।
ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজে হিন্দি ধারাভাষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা শাকিরের কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। তাঁর সাবলীল উচ্চারণ শুনে খোদ প্রশংসা করে গেলেন গাভাসকরও। শাকিরের কথায়, “উনি আমাকে থাম্বস-আপ দেখালেন। বুঝিয়ে দিলেন, আমার হিন্দি উচ্চারণ কতটা পরিষ্কার। ওঁর চোখেমুখেও সেই প্রশংসা ফুটে উঠেছিল।” আফগানিস্তানে হিন্দি সিনেমা রমরমিয়ে চলে। ছোটবেলা থেকেই বলিউডের ভক্ত শাকির। বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চনের। ১৯৯২ সাল। বিগ বি-র ‘খুদা গাওয়া’র শুটিং হয়েছিল কাবুল, কুন্দুজ, বাঘলানের মতো আফগান প্রদেশে। সেই ছবি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই শুরু। এরপর বচ্চনের সিনেমা দেখতে দেখতেই হিন্দি ভাষা রপ্ত করে ফেলেন শাকির।
শাকির বলেন, “কাবুলের এক পাঠান আজ ভারতের মাটিতে হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছে। এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে!” গত ১৫ বছর ধরে পশতু ভাষায় ধারাভাষ্য দিচ্ছেন শাকির। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ড সিরিজের সময় প্রথম বার ভারতে এসেছিলেন। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই অন্য রকম। কমেন্ট্রি বক্সে সঞ্জয় মঞ্জরেকর, সুনীল গাভাসকর, অজয় জাদেজার মতো প্রাক্তন তারকাদের পাশে বসার সুযোগ পেয়েছেন। জাদেজাকে দেখে তাঁর মন্তব্য, “একটা সময় আপনাদের টিভিতে দেখে স্বপ্ন দেখতাম। আর আজ ঈশ্বর এমন দিন দিয়েছেন, আপনাদের পাশে বসে ধারাভাষ্য দিচ্ছি।”
!
From Amitabh Bachchan’s films to calling T20 matches in Hindi, Sharafuddin Shakir shares the story behind his journey into Hindi and Pashto commentary!
Catch #AFGvIND 3rd T20I LIVE NOW on Sony… pic.twitter.com/ESI4zGazgW
— Sony Sports Network (@SonySportsNetwk) September 17, 2026
শাকিরের আফগানিস্তানের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে তিনি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে সিইও-র দফতর, হিউম্যান রিসোর্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, মিডিয়া-সহ বিভাগে কাজ করেছেন। আফগান ক্রিকেটের উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আফগানিস্তানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ায় গর্বিত শাকির। এখন সেদেশে বছরে অন্তত ১৫টি ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়। এর মধ্যে শপাগিজা লিগ অন্যতম।
শাকির নিজে আইসিসি স্বীকৃত লেভেল-১ কোচ। ধারাভাষ্যকার হিসাবে তাঁর আদর্শ রবি শাস্ত্রী এবং নভজ্যোত সিং সিধু। সিধুর ধারাভাষ্যের ধরন এতটাই পছন্দ তাঁর যে, পশতু ভাষায় ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়ও কখনও কখনও সিধুর জনপ্রিয় সংলাপ ব্যবহার করেন। একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের তেমন পরিচিতি ছিল না। সেই সময়ে শচীন তেণ্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়দের খেলা দেখেই ক্রিকেটের পাঠ নিয়েছেন। সময় বদলেছে। আফগান ক্রিকেটের রশিদ খান, মহম্মদ নবিরা এখন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয়। আর সেই বদলে যাওয়া আফগান ক্রিকেটেরই এক প্রতিনিধি শাকির। যিনি হাজার হাজার মাইল দূরে বসে যে ভাষা শিখেছিলেন, আজ সেই হিন্দিতেই ভারতীয় দর্শকদের সামনে ক্রিকেটের গল্প শোনাচ্ছেন।
আপাতত প্রতীক যুদ্ধে ইতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মমতার শিবিরের নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।’ তাঁদের প্রতীক ‘ফুটবলার’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক ‘খাম’। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে আপাতত মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের এই প্রতীক এবং দলের নামেই লড়তে হবে। যদিও কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, উপনির্বাচনের পর তাঁরা চাইলে ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন।
মমতা শিবিরের তরফে কমিশনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’,‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’, ‘তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’- এই তিন বিকল্পের কথা জানানো হয়। মমতার তরফে প্রতীক হিসাবে ক্রিকেট ব্যাট ও ফুটবলার। আবার ঋতব্রত শিবিরের তরফে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস বা ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’ – এই বিকল্প নামগুলির কথা জানানো হয়েছিল। ঋতব্রত শিবির খাম, ব্ল্যাক বোর্ড ও টর্চ প্রতীক হিসাবে চেয়েছিল বলেই খবর। তার মধ্যে থেকেই প্রতীক এবং দলের নাম আপাতত চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন।গত ২৮ বছর আগে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নে, এই ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। দল দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রতীক নিয়ে ঋতব্রত বনাম কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানটান লড়াই চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই প্রতীক-যুদ্ধের যবনিকা পতন করল নির্বাচন কমিশন। দল কার, দলের তহবিল কার হাতে থাকা উচিত, এই সমস্ত প্রশ্ন উঠে এসেছে এই প্রতীক ও নাম যুদ্ধের হাত ধরে। আপাতত কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কারও নয় জোড়াফুল।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই মমতা শিবিরের তরফে কমিশনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’,‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’, ‘তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’- এই তিন বিকল্পের কথা জানানো হয়। মমতার তরফে প্রতীক হিসাবে ক্রিকেট ব্যাট ও ফুটবলার। আবার ঋতব্রত শিবিরের তরফে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস বা ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’ – এই বিকল্প নামগুলির কথা জানানো হয়েছিল। ঋতব্রত শিবির খাম, ব্ল্যাক বোর্ড ও টর্চ প্রতীক হিসাবে চেয়েছিল বলেই খবর। তার মধ্যে থেকেই প্রতীক এবং দলের নাম আপাতত চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন।
গত বছর নিঠারি হত্যাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট বেকসুর খালাস করেছিল মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলিকে। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ২০ বছর জেলবন্দি ও বেকসুর খালাস পাওয়ার পর এবার আত্মঘাতী হলেন সুরেন্দ্র। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
২০০৫-২০০৬ সালে নয়ডায় নিঠারি হত্যাকাণ্ডের খবরে শিউরে উঠেছিল দেশ। এলাকার ধনী ব্যক্তি মণিন্দর সিং পান্ধের ও তার পরিচারক সুরেন্দ্রর নাম জড়ায় একের পর এক শিশু, কিশোরী নিখোঁজ এবং পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায়। অসংখ্য যুবতী, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, নরমাংস ভক্ষণ, শবদেহের সঙ্গে সঙ্গমের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ছিল কোলির বিরুদ্ধে। মামলায় ফাঁসির সাজা খারিজ হয়েছিল আগেই। কোলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৩টি মামলার মধ্যে ১২টি মামলাতে আগেই খালাস পান তিনি। শেষ মামলা ছিল ১৫ বছরের এক কিশোরীকে খুনের অভিযোগে। সেই মামলাতেও গত বছর নভেম্বর মাসে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। শীর্ষ আদালত প্রমাণের অভাবের জন্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছিল, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার গলদেই প্রমাণ মিলছে না অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
অসংখ্য যুবতী, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, নরমাংস ভক্ষণ, শবদেহের সঙ্গে সঙ্গমের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ছিল কোলির বিরুদ্ধে।জেলমুক্তির পর হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন ৫৩ বছরের সুরেন্দ্র। শুক্রবার সকালে সেখানেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আত্মহত্যাই করেছেন সুরেন্দ্র। তবে কেন তিনি আত্মঘাতী হলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশপাশের প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আত্মহত্যা না কি খুন সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুরেন্দ্রর মুক্তির খবর জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সন্তানহারা বাবা-মায়েরা। তাদের প্রশ্ন ছিল, “পান্ধের ছাড়া পেয়ে গেল, সুরেন্দ্র কোলিও ছাড়া পেয়ে গেল। নরখাদকরা কোনও অপরাধই করেনি! তাহলে এতদিন তাদের জেলে বন্দি করে রাখা হল কেন? আমাদের সন্তানকে কি ভূতে খুন করল?” আর এক অভিভাবক বলছেন, “কোলি, পান্ধেররা যদি নির্দোষ হয়, তাহলে যারা এতদিন তাদের জেলে রেখেছিল তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক। কারও তো শাস্তি পাওয়া উচিত।”
যে মাটিতে তত্ত্বকথা গান হয়ে ওঠে, দর্শন রূপ নেয় সুরে, সেখানেই জন্ম নেয় প্রেমভক্তির অমৃতধারা। রাধার প্রেম কেবল পৌরাণিক আখ্যান নয়, তা বঙ্গজীবনের গভীরতম আধ্যাত্মিক আকুলতার এক মহাকাব্যিক সুর। রাধাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে বাংলার চৈতন্যে আজ পুনরায় ধ্বনিত সেই অতিপ্রাকৃত প্রেমরস। লিখছেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র।
বাংলায় রাধাকৃষ্ণের মাধুর্যভাবের সূচনা বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রথম প্রভাতে। কবি জয়দেবের কালজয়ী সৃষ্টি ‘গীতগোবিন্দ’-এ রাধা ও কৃষ্ণের মিলন-বিরহের প্রথম অপূর্ব কাব্যিক প্রকাশ ঘটে। সংস্কৃত ভাষার সেই দিব্য সুর পরবর্তীকালে বাংলার কবিদের হাত ধরে সহজ ও গভীর রূপ লাভ করে। বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের পদাবলিতে রাধা কেবল দেবী নন, তিনি বিরহ, আকুলতা, মান, অভিমান ও আত্মনিবেদনের এক পূর্ণাঙ্গ মানবিক প্রতিচ্ছবি। মানুষের হৃদয়ের পরম আকাঙ্ক্ষাকে তাঁরা রূপ দিয়েছেন পরমতত্ত্বের অভিমুখী এক প্রেমে।
ছবি: সংগৃহীতএই প্রেমসাধনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। নবদ্বীপের মাটিতে তাঁর আবির্ভাব বৈষ্ণব ভক্তিআন্দোলনকে এনে দেয় এক নতুন মাত্রা। মহাপ্রভুর দর্শনে রাধা হলেন ভক্তির সর্বোচ্চ আদর্শ। কৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তির মূর্ত রূপ। ভক্তের কাজ পরমেশ্বরের সুখে নিজেকে বিলীন করা—এই তত্ত্বকেই তিনি সংক্রামিত করেছিলেন শ্রীনামসংকীর্তনের মাধ্যমে। সংকীর্তন আর কেবল ভজন রইল না। তা হয়ে উঠল সমবেত নৃত্য, গীত ও অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল। পদাবলি কীর্তনের মধ্য দিয়ে এই বিরহ ও মিলনের সুর বাংলার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি মন্দিরে ছড়িয়ে পড়ল।
পরবর্তীকালে বাংলার এই ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বাংলার এই মহাভাব ও সংকীর্তন আন্দোলনকে পৌঁছে দেন সমগ্র বিশ্বে। ১৯৬৬ সালে নিউইয়র্কে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, আজ মায়াপুরের বিশ্বকেন্দ্রিক বৈষ্ণবধামে তার পূর্ণ বিকাশ দেখা যায়। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ রাধানামের সুধায় আপ্লুত।
রাধাষ্টমী তাই কেবল উদ্যাপনের দিন নয়, তা বঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রেমভক্তি ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকার স্মরণের পুণ্যলগ্ন। জয়দেবের কবিতা, চণ্ডীদাসের পদ, মহাপ্রভুর সংকীর্তন এবং বর্তমানের বৈষ্ণবধাম—সবই এক সূত্রে গাঁথা। বাংলা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে হয় এবং সেই আকুলতাকে সংগীতরসে জারিত করতে হয়। রাধানামের সেই অমলিন সুর আজ বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত।
নিজের হাতে দলের প্রতীক তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম আপাতত হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিষয়ে এবার মমতাকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। “ভগবান রামচন্দ্রের অভিশাপে সব ধ্বংস হয়েছে।” বললেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে বিশ্বকর্মা পুজোয় উপস্থিত ছিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মমতাকে নাম না করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সবপক্ষের কথা শুনে উনি নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি। দুই-তিন-চার ভাগ হয়েছে। এর দায়িত্ব ওনার। এটার সঙ্গে আমাদের বিজেপির রোল নেই।” তিনি মনে করিয়ে দেন, “তবে আমি একটা কথা বলি, নির্বাচনের গনণার দিন হলদিয়ায় বলছিলাম আর যেই থাকুক ওনারা থাকবেন না।”
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন হয়েছিল। রাম মন্দির তৈরির বিরোধিতা করেছিলেন সেসময়ের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে সেদিন মিছিলেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা। সেই বিরোধিতায় রামচন্দ্রের অভিশাপেই তৃণমূল ধ্বংস হল! কুম্ভমেলা নিয়েও অতীতে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “অতি দর্পে হত লঙ্কা। দম্ভ যার হবে সেই দম্ভে সে চূর্ণ হবে। হিন্দু ধর্মকে গন্ধ্যা ধর্ম বলা, কুম্ভ মৃত্যু কুম্ভ বলা, রাম মন্দির উদ্ধোধনের দিন মানি না বলে মিছিল করা। ভগবান পুরুত্তোম রামচন্দ্রের মহারাজে অভিশাপে সব ধ্বংস হয়েছে।”
এদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই ইস্যুতে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কটাক্ষ, “এটা উপরওয়ালার বিচার। তৃণমূল বলে কোনও পার্টি নেই। তৃণমূল মৃত। তৃণমূল নির্মূল।” আগামী উপনির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রতীক হারিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়া ফুল এখন কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত শিবির কেউই ব্যবহার করতে পারবে না। সেই কথা গতকাল, বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এদিন তৃণমূলের দুই শিবিরের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে তা নিয়ে নাকি বেজায় ব্যস্ত মহুয়া মৈত্র। আর সে কারণেই ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় হাজিরা দিতে পারলেন না কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। শুক্রবার ই-মেল মারফত পুলিশকে একথা জানিয়েছেন তিনি। অমিত শাহের বৈঠক নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পুলিশি তলব এড়ালেন মহুয়া।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পুলিশ অফিসারদের নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাতে তাঁর অভিযোগ ছিল, উত্তরবঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুসলিম আইপিএস, আইএএস-দের ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনজনের নাম পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, এসটিএফের ডিজি জাভেদ শামিম ও আইএএস খলিল আহমেদকে সেই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, আবার কাউকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তাতে মহুয়ার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু প্রশাসকদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
Hello @IPS_Association & @IASassociation – Muslim officers in Bengal disallowed if Amit Shah present- CP Siliguri Waquar Raza banned from welcome lineup, Jawed Shamim DG STF not invited anywhere, Khalil Ahmed IAS made to leave mtng. Won’t you protest this sick communal nonsense?
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) September 1, 2026
এই পোস্টেই আপত্তি তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের এক ব্যক্তি। তিনি সাইবার ক্রাইম থানায় মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় শুক্রবার তলব করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে মহুয়া জানিয়েছিলেন তিনি হাজিরা দেবেন। তবে শুক্রবার সকালে সিদ্ধান্ত বদল করেন। তিনি জানান, তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানির ফলে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাই কোনওভাবেই হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর তলব করা হয় তাঁকে। সেদিনও হাজিরা দিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।
বেশ কয়েকদিন ধরেই ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট ২’এ সময় আর শ্যারনের খুনসুটি আলোচনার কেন্দ্রে। সত্যিই শ্যারনের সঙ্গে চুপিচুপি প্রেম করছেন? জল্পনার মাঝে সময়ের ‘ইন্টারনেট শুধু নিজের মতো করে গল্প বানাচ্ছে’ মন্তব্যে চর্চায় পড়েছে যতিচিহ্ন। শ্যারনই প্রথম মহিলা নন এর আগে সময়ের সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল অভিনেত্রী মেধা শঙ্করের। এবার মেধার সঙ্গে সময়ের বিয়ের গুঞ্জনে সরগরম টিনসেলটাউন।
সম্প্রতি মেধা ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট ২’-এর একটি পর্বে বরুণ ধাওয়ান, শ্যারন ভার্মা এবং নিশান্ত তানওয়ারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনার মাঝে মেধাকে ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন সময়। প্রেমচর্চা উসকে ‘টুয়েলভথ ফেল’ নায়িকার সঙ্গে সময়ের বিয়ের জল্পনা আরও জোরাল হচ্ছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। দীপাবলির পরই সিঙ্গল টু মিঙ্গল হচ্ছেন সময়?
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মেধা শঙ্করই সময় রায়নার মনের মানুষ। চলতি বছরের শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই বৈবাহিকবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন। যদিও সময় বা মেধা কেউই ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনওরকম মন্তব্য করেননি। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শীতের হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে সময় ও মেধা জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করবেন।
সময় রায়না‘রেডিট’-এর একটি স্ক্রিনশট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তেই জল্পনার সূত্রপাত। ভাইরাল হওয়া ‘রেডিট’-এর পোস্ট অনুযায়ী, ‘আমি সময় রায়নার পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ। গতকাল তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সময় রায়না ও মেধা শঙ্কর ছাব্বিশের ডিসেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। আপাতত ওঁরা দু’জন ছুটি কাটাচ্ছেন। সময় নাকি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেধাকে বিয়ে করতে চান।’
বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই সময় ও মেধার প্রেমের গুঞ্জনে সরগরম মায়ানগরীর সিনেপাড়া। একাধিকবার তাঁদের যুগলবন্দি উপস্থিতি সেই প্রেমের জল্পনাকে জোরাল করেছে তা বলাই বাহুল্য। সুইজারল্যান্ড থেকে চর্চিত প্রেমিকযুগলের ছুটির মুডের আলো-আঁধারি ছবিও ভাইরাল হয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়।
Samay Raina is set to marry Medha Shankr this December.
As per a Reddit post, someone close to Samay Raina’s family says Samay wants to marry Medha Shankr this December, confirmed by his mother after speaking to him last night. For anyone who doesn’t know, Samay and Medha… pic.twitter.com/mHwmyecPyo
— Abhishek Kumar (@Abhishek060722) September 17, 2026
যদিও সেই পোস্টের সত্যতা সময় বা মেধা কেউই স্বীকার করেননি। এমনকী ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট ২’-এর সাম্প্রতিক সিজনেও মেধার সঙ্গে সম্পর্কের কথা কার্যত অস্বীকার করেছেন সময়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রেম-বিয়ের জল্পনা গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়ে যায় নাকি পরবর্তী ধাপে পৌঁছায় সেই উত্তরের অপেক্ষায় অনুরাগীমহল।