সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা হয়নি। তবে স্মৃতিচিহ্নের মতো এদিক সেদিক লোহার রড, ইট, ভাঙা দেওয়ালের অংশ আজও পড়ে রয়েছে। বদলের বাংলায় সেই সিঙ্গুরে ফের বিশ্বকর্মা আরাধনা। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সেখানে যেতে পারেন বলেই খবর।
‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদে’র তরফে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়। তৃণমূলের আমলে তৈরি শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে তৈরি হয়েছে মণ্ডল। সকাল থেকেই যেন সেখানে সাজ সাজ রব। ঢাক বাড়ছে। এলাকার আট থেকে আশির আনাগোনাতে সরগরম গোটা এলাকা।
বিশ্বকর্মার আরাধনার পর যেন সিঙ্গুরে শিল্পখরা কাটে, এটাই প্রার্থনা স্থানীয়দের।
স্থানীয় কৃষকরা এই জমিতে কোনও সময় ধান চাষ করতেন। তবে এখন সেই জমি নিষ্ফলা। বর্তমানে এই জমিতে আগামী কয়েক বছর চাষবাস হওয়া যে সম্ভব নয়, সে বাস্তব যেন এখন জোর করেই মেনে নিয়েছেন কৃষকরা। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসারে এখন শুধু শিল্পের জন্য হাহাকার। তাঁরা চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিল্প আসুক সিঙ্গুরে।
বলে রাখা ভালো, ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল টাটা। আক্ষেপ নিয়েই বাংলা ছেড়েছিলেন প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটা। আজও বাংলার মানুষ সেই ক্ষত ভুলতে পারেননি। কারণ শিল্প চলে গেলে শুধু একটি কোম্পানি যায় না, হারিয়ে যায় হাজার হাজার চাকরি, থমকে যায় উন্নয়ন, অন্ধকার নামে যুবসমাজের ভবিষ্যতের উপর। বিজেপি বিশ্বাস করে – বাংলার উন্নয়নের একমাত্র পথ শিল্পায়ন। তাই বাংলায় আবার টাটাকে ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছে বিজেপি।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সংকল্পপত্রে দাবি করেছিল সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক হবে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও টাটাদের সিঙ্গুর ফেরানোই চ্যালেঞ্জ বলে দাবি করেছিলেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের গলাতেও শোনা গিয়েছে শিল্প বার্তা। সিঙ্গুরের বিধায়ক অরূপকুমার দাসও শিল্পের বিষয় আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমাদের সংকল্পপত্রে বলা হয়েছিল, সিঙ্গুরে শিল্পায়ন হবে। আমাদের সরকার আগামী দিনে সিঙ্গুরবাসীর আশাপূরণ করবে।” এদিন বিশ্বকর্মা পুজোয় অংশ নিতে পারেন শিল্পমন্ত্রী তাপস চট্টোপাধ্যায়। কৃষকরা একজোট হয়ে তাঁর কাছে শিল্পের দাবি করতে পারেন বলেই খবর।
এশিয়ান গেমসের আয়োজন নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে বই কমছে না। এবার ক্ষোভ উগরে দিলেন ভারতের শুটিং দলের সিনিয়র কোচ। তিনি জানিয়েছেন, অব্যবস্থা প্রতিটি ছত্রে। বিশেষ করে শুটারদের প্রশিক্ষণের জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। শুটারদের প্রশিক্ষণের জায়গা থেকে মূল শুটিং স্থলের দূরত্ব এতটাই বেশি যে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। ভারতের কোচ আরও জানিয়েছেন, তাঁরা একটা প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভাবনার সঙ্গে আয়োজনের কোনও মিল নেই। শুটিং রেঞ্জ থেকে ভারতীয় শুটারদের রাখা হয়েছে ৫০ কিমি দূরে অবস্থিত বিভিন্ন হোটেলে।
এবারের এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাপানের আইচি-নাগোয়ায়। ভারতীয় শুটিং দল এবারের এশিয়াডে পদক জয়ের অন্যতম দাবিদার। দলে মনু ভাকের, এষা সিং-সহ শীর্ষ শুটাররা অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের জন্য এতটাই সময় যাতায়াতে ব্যয় হচ্ছে যে, মেনে নেওয়া কঠিন। রাস্তাতেই বেশ খানিকটা সময় কেটে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কোচ বলেছেন, “এই যাতায়াতের সমস্যাটা সত্যিই বিরক্তিকর। বড় সমস্যা। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। আমি শুটিং রেঞ্জের আশপাশে কোনও হোটেল দেখতে পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “ঠিকমতো ব্যবস্থা থাকলে আমরা অনেক আগেই শুটিং রেঞ্জে পৌঁছে যেতে পারতাম। হোটেল না থাকায় আমাদের দূরে থাকার ব্যবস্থা করেছে। কিছু করার নেই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি ন্যাশনাল রাইফেল আসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়াকে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমার ধারণা এনআরএআই কর্তারা বিষয়টি আয়োজকদের জানিয়েছেন। আমি নিজে অবশ্য ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলিনি।”
তিনি একথাও স্বীকার করেছেন, শুটিং রেঞ্জ থেকে হোটেলের দূরত্ব আগেও দেখেছেন। গত হাংঝৌ গেমসেও শুটিং রেঞ্জে পৌঁছতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগত। অবশ্য শুধু শুটিংই নয়, সমস্যার মুখে পড়েছেন অন্য অ্যাথলিটরাও। যেমন ভারতের মহিলা কবাডি দল। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই গেমস সেন্টারে পৌঁছান তাঁরা। কিন্তু তাঁদের জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয় সন্ধ্যার দিকে। উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবাহক মনু ভাকের। থাকছেন তাজিন্দরপাল সিংও। তার আগে এমন অব্যবস্থার ছবি এশিয়াডে। যা তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ছেলের মৃত্যুতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ছেলেকে হারিয়েছেন মাত্র কয়েকমাস হয়েছে। সন্তানশোক বুকে নিয়ে ছেলেরই স্বপ্নপূরণে ভোটের ময়দানে এগিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন মা হাসিরানি। বৃহস্পতিবার ছেলের মৃত্যু নিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘‘ভোটের কিছুদিন আগে আমাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটা সভায় বলেছিলেন, শুভেন্দুবাবুর রথকে উলটো করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন। আমরা তখন ভেবেছিলাম, বিজয় রথ। তখন থেকেই হয়ত প্ল্যান-প্রোগ্রাম চলছিল। সেটাই হয়ত আমার ধারণা, আমি বলেছিলাম, এই জন্যেই হয়ত ভবানীপুরের হারটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিতে পারেননি। তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে নেমে বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘‘ভোটের কিছুদিন আগে আমাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটা সভায় বলেছিলেন, শুভেন্দুবাবুর রথকে উলটো করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন। আমরা তখন ভেবেছিলাম, বিজয় রথ। তখন থেকেই হয়ত প্ল্যান-প্রোগ্রাম চলছিল। সেটাই হয়ত আমার ধারণা, আমি বলেছিলাম, এই জন্যেই হয়ত ভবানীপুরের হারটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিতে পারেননি। তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”
১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। নিজস্ব ছবিগত মঙ্গলবারও মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে সভামঞ্চ থেকে আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ভবানীপুরে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেই অকালে চলে যেতে হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুরের জয়ের পিছনে অনেকটাই পরিশ্রম ছিল চন্দ্রনাথ রথের ছেলের মৃত্যুর পরেও সেই কথা শোনা গিয়েছিল মা হাসিরানি রখের মুখে। এবার তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করলেন চন্দ্রনাথের খুনের ঘটনায়।
বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার রেয়াপাড়ায় বিধায়ক কার্যালয়ে উপনির্বাচনের প্রার্থী পরিচিতি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সেইসঙ্গে রেয়াপাড়া এলাকায় পদযাত্রাও করেন বিজেপি প্রার্থী। উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা, সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, সভাধিপতি বামদের গুছাইত, পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি, বিজেপি নেতা প্রলয় পাল। ছেলে হারানোর শূন্যতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করলেন হাসিরানি রথ। তাঁকে পাশে নিয়ে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘বিরোধীরা অস্তিত্ব লড়াইয়ের জন্য লড়ছেন, আমরা লক্ষাধিক ভোটে জয়ের জন্য লড়ছি।”
ভিডিও গেম মানেই শুধু বিনোদন নয়। অনেকের কাছে তা অবসর কাটানোর মাধ্যম, কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা, আবার কারও ক্ষেত্রে পেশাও। কিন্তু সেই গেমিং যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকা, রাত জাগা, শরীরচর্চার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন বদলে যেতে পারে ছবিটা। প্রশ্ন উঠছে, এমন জীবনযাপন কি হৃদ্যন্ত্রের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে?
প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের সময় উত্তেজনা, রাগ, টেনশন বা জেতার প্রবল তাগিদ শরীরে শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ফলে শুধু মাঠে খেলাধুলো নয়, স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা নিয়েও নজর দিতে হচ্ছে জীবনযাপনের দিকে।
আসল সমস্যা শুধু গেম নয়
সাধারণভাবে ভিডিও গেমকে হৃদ্যন্ত্রের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর বলা যায় না। সমস্যা তৈরি হয় যখন গেমিংয়ের সঙ্গে একের পর এক অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস জুড়ে যায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রতিযোগিতামূলক গেম সত্যিকারের স্ট্রেস রেসপন্স তৈরি করতে পারে। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সময় শরীরে অ্যাড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
অর্থাৎ, একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সময় হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা শরীরে স্ট্রেস রেসপন্স তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বারবার যদি চরম মানসিক উত্তেজনার মধ্যে গেমিং চলতে থাকে, তা সামগ্রিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উত্তেজনার প্রভাব পরে শরীরেও। ছবি: সংগৃহীতএক জায়গায় বসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা
একটি ম্যাচ শেষ হচ্ছে, শুরু হচ্ছে পরেরটি। কখনও বিরতি নেই। এভাবেই দিনের বড় একটা সময় কেটে যাচ্ছে চেয়ারে বসে। শারীরিক নড়াচড়া প্রায় নেই বললেই চলে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চার অভাবের সঙ্গে যুক্ত হলে সময়ের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের অস্বাভাবিক মাত্রার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। যা বাড়ায় হৃদ্রোগের ঝুঁকি।
তাই দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সমস্যা শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার সঙ্গে যদি দিনের পর দিন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হয়, তাহলে তৈরি হতে পারে হৃদ্রোগের একাধিক পরিচিত ঝুঁকি।
রাত জাগার সঙ্গে ক্যাফেইনের চাপ
গেমিংয়ের সময় আরও একটি অভ্যাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে অনেকেই ঘুম কমান, রাতে জেগে থাকেন এবং ক্লান্তি কাটাতে বারবার কফি, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খান।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড়, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তার সঙ্গে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি যোগ হলে শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদমও ব্যাহত হতে পারে।
খেলুন, তা যেন অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে পরিণত না হয়। ছবি: সংগৃহীতউত্তেজনা ভেবে ভুল করবেন না
গেম চলাকালীন বা খেলা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা চাপ, খুব দ্রুত কিংবা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে শুধুই গেমের উত্তেজনা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এই ধরনের উপসর্গের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। বিশেষ করে উপসর্গ হঠাৎ ও তীব্রভাবে শুরু হলে অথবা তার সঙ্গে ঘাম, বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতা রয়েছে বা পরিবারে কম বয়সে হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গেমিং থেকে দূরে থাকা নয়, বরং খেয়াল রাখা দরকার, স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় যেন ঘুম, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিজের শরীরের সতর্ক সংকেতকে উপেক্ষা না করা হয়।
ছাব্বিশের নির্বাচনে জয়ের পরে রাজ্যজুড়ে তোলাবাজি বন্ধ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে শোনা গিয়েছে পুরোপুরি তোলাবাজি বন্ধের বার্তা। আর এবার সেই নিয়েই চরম নিদান দিলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। তাঁর নাম করে কেউ তোলাবাজি করতে এলে প্রথমেই কানের গোড়ায় থাবড়ানোর বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিধায়কের নাম করে যদি কেউ এসে বলে, টাকা দিতে হবে, আগে কানের গোড়ায় একটা থাবড়ে দেবেন। তারপর বলবেন, বিধায়ককে ডেকে নিয়ে আয়।” তোলাবাজি করতে এলে বেঁধে রাখার নিদানও দেন বিধায়ক।
বৃহস্পতিবার রাতে মেমারির বামুনপাড়া মোড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আশীর্বাদের প্রদীপ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। সেই অনুষ্ঠানে বিধায়ক জানান, ৩৪ বছরে সিপিএমের নেতারা ও ১৫ বছরে তৃণমূলের নেতারা রাজা হয়ে বসেছিল। চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সকলেই রাজা ছিলেন। এই সিস্টেমগুলি ভাঙতে হবে। কাউকে তোলাবাজি করার সুযোগ যাতে না দেওয়া হয় সেই বার্তা দেন বিধায়ক। কেউ বিধায়কের নাম করে তোলাবাজি করলে প্রথমে কানের গোড়ায় থাবড়ানোর পর বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন বিধায়ক। তারপর তাঁকে ফোন করতে বলেন। বিধায়ক মানব গুহর কথায়, “মেমারি শহরকে পরিষ্কার রাখতে চাই। আমি দেখতে চাই লোকটা কে?”
যদিও তোলাবাজির জন্য অনেক ক্ষেত্রে দোকানদারদের দায়ী করেন বিধায়ক। নেতাদের টাকা দিয়ে অনেক দোকানদারই নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে চান। এবিষয়ে দোকানদারদের বিধায়কের পরামর্শ, “পুরসভায় গেলে খুব একটা টাকা লাগে না পারমিশন নিতে। যতটা কম খরচে সেখান থেকে পারমিশন পাবেন তার ১০০ গুণ বেশি টাকা নেতাদের দিতে হবে।” তাই এই নেতাদের টাকা না দিয়ে কোনও কাজ করাতে সরাসরি পুরসভায় যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দুর্গাপুজো মানেই শহরজুড়ে বিজ্ঞাপনের ছয়লাপ। তবে এবার পুজোয় যত্রতত্র হোর্ডিংয়ের বাড়বাড়ন্ত রুখতে কড়াকড়ি কলকাতা পুরসভার। দুর্গাপুজোয় শহরের রাস্তায় হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স বসাতে কলকাতা পুরসভার অনুমতি বাধ্যতামূলক। কলকাতা পুরসভার সম্মতিপত্র নিয়ে তবে রাস্তায় হোর্ডিং ঝোলাতে পারবে পুজো উদ্যোক্তারা। সূত্রের খবর, এই বছর প্রথম পুরসভার তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরসভার বিজ্ঞাপন দপ্তরে আবেদন করতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। কলকাতা পুরসভার তরফে বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবরের আগে কোনও হোর্ডিং, ফ্লেক্স, ব্যানার লাগানো যাবে না। ২৯ অক্টোবরের মধ্যে পুজোর সব হোর্ডিং খুলে ফেলতে হবে।পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরসভার বিজ্ঞাপন দপ্তরে আবেদন করতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করা যাবে। হোর্ডিং, ব্যানার বা ফ্লেক্স টাঙানোর ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্তও মানতে হবে উদ্যোক্তাদের। কলকাতা পুরসভার তরফে বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবরের আগে কোনও হোর্ডিং, ফ্লেক্স, ব্যানার লাগানো যাবে না। ২৯ অক্টোবরের মধ্যে পুজোর সব হোর্ডিং খুলে ফেলতে হবে।
এবার রাস্তায় বাঁশের গেট করার ক্ষেত্রেও উচ্চতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের অস্থায়ী গেটের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২২ ফুট হতে হবে।প্রতি বছর পুজোর সময়ে শহরের বড় পুজো সংলগ্ন রাস্তায় বাঁশের কাঠামো তৈরি করে হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স টাঙানো হত। এই সব হোর্ডিং কত দিন রাস্তায় থাকবে, তা নিয়ে পুরসভার তরফে কোনও অনুমতি নিতে হত না বলে খবর। যার ফলে পুজো মিটে গেলেও বাঁশের কাঠামো-সমেত বিজ্ঞাপন দীর্ঘ দিন পড়ে থাকতে দেখা যেত রাস্তায়। তবে এবার রাস্তায় বাঁশের গেট করার ক্ষেত্রেও উচ্চতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের অস্থায়ী গেটের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২২ ফুট হতে হবে।
হোর্ডিং, ব্যানার টাঙানোর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের আরও বেশ কয়েকটি নিয়ম মানতে হবে। যেমন – পুজোর ক’টা দিন হোর্ডিং, ব্যানার, ফ্লেক্স এমন ভাবে বসাতে হবে, যাতে অন্য স্থায়ী হোর্ডিং, রাস্তার আলো, যাত্রী ছাউনিতে সমস্যা না হয়। ব্যানার, হোর্ডিংয়ের আয়তন কতটা হবে, আবেদনপত্রে তাও উল্লেখ করতে হবে উদ্যোক্তাদের। পুরসভা আরও জানিয়েছে, অনুমোদন পাওয়া হোর্ডিংয়ে পুরসভার পারমিশন আইডি, পুজো কমিটির নাম ও বিজ্ঞাপনদাতার নাম-ফোন নম্বর লেখা থাকতে হবে। এই সমস্ত শর্ত মেনে নির্দিষ্ট সময়ে হোর্ডিং লাগানো যাবে, অন্যথায় নিয়ম ভাঙা হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেবে পুরসভা।
পোশাক-গয়না-অ্যাক্সেসারিজে সেজে ওঠা যায় নানা রকমভাবে। কেমন সাজলে ভালো লাগবে তা জানতে চাইলে ইন্টারনেটেও ভূরি ভূরি সমাধান পাওয়া যাবে। চিন্তা থাকে কেবল হেয়ারস্টাইল নিয়ে (Durga Puja Hairstyle)। বাকি সবটুকু সাজ মনমতো হলেও চুল বাঁধার কায়দায় রকমফের আনা বেশ কঠিন। হাতে গোনা কয়েক রকম সাজের বাইরে একেবারে অন্যধারার কিছু স্টাইল করতে ইচ্ছে হলেও দ্বন্দ রয়ে যায় মনে।
আসছে পুজোয় চুলের সাজে যদি নতুনত্ব আনতে চান, তা হলে অভিনেত্রী শানায়া কাপুরের সাম্প্রতিক লুকটি রাখতেই পারেন অনুপ্রেরণা হিসেবে। সম্প্রতি অ্যান্টিলিয়ার গণপতি উৎসবে তাঁকে দেখা গিয়েছে একেবারে ভিন্নমাত্রার এক সাজে। এদিন রাজকীয় বেগুনি রঙের শাড়ি ড্রেসের সঙ্গে উজ্জ্বল সোনালি গয়না বেছে নিয়েছিলেন শানায়া। তবে সবচাইতে আকর্ষণীয় ছিল তাঁর হেয়ার স্টাইল।
সামনে থেকে দেখলে তাতে আলাদা কোনও বিশেষত্ব চোখে না পড়লেও, মাথার পিছনের অংশের চুল সাজিয়ে তোলা হয়েছিল ছোট্ট ছোট্ট ঘুঙুর দিয়ে। এক ঝলক দেখলে মনে হয় যেন চুলে উড়ে এসে বসেছে অসংখ্য জোনাকি! কেবল শানায়া নন, ইদানিং বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেই দেখা যাচ্ছে চুল সাজাতে ঘুঙুরের ব্যবহার করতে। খোলা চুলের পাশাপাশি, খোঁপা হোক না বেণী, নানাভাবে সাজিয়ে তোলা যেতে পারে ঘুঙুর দিয়ে। এই তুমুল জনপ্রিয় ট্রেন্ড ‘হ্যাশট্যাগ ঘুংরু’ নামে ইতিমধ্যেই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়ায়।
দেখতে সুন্দর তো বটেই, পাশাপাশি এতে রয়েছে এক মজার টুয়িস্ট। এমন হেয়ার স্টাইলে হেঁটে বেড়ালে বা মাথা নাড়ালে, মৃদু টুংটাং আওয়াজ আসে কানে। হেয়ার ও মেকআপ বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮০-এর দশকের বিয়ের সাজেও ঘুঙুর লাগানো হেয়ারপিন বেশ জনপ্রিয় ছিল। কনের জুড়ো বা খোঁপার চারপাশে ঘুঙুর লাগানো হত। সেই পুরনো স্টাইলই এবার ফিরছে নতুন রূপে।
বাড়িতেই কীভাবে করবেন?
১। প্রথমে চুলের বেস তৈরি করুন: পছন্দমতো স্লিক বিনুনি, পরিপাটি খোঁপা কিংবা হাফ-আপ ওয়েভ তৈরি করে নিন।
২। ছোট ঘুঙুরের স্ট্রিং বা আলাদা ছোট্ট ঘুঙুর কিনে নিন অনলাইন শপিং সাইট থেকে। চুলের মনমতো অংশে অথবা বেণীর প্রতিটি গাঁটের কাছে ববি পিন বা ইউ-পিন দিয়ে আটকে দিন।
৩। যদি ঘুঙুরের স্ট্রিং কেনেন, তাহলে বিনুনি করার সময়েই চুলের একটি অংশের সঙ্গে ঘুঙুরের স্ট্রিংটিও বেঁধে নিন বিনুনির মধ্যে। খোঁপা করলে তার চারপাশে ঘুঙুরের চেন জড়িয়ে দিন।
৪। চুলের কোনও এক অংশে যেন বেশি ঘুঙুর না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। জায়গায় আটকে রাখতে, স্টাইলিং শেষে হালকা হেয়ারস্প্রে ছড়িয়ে দিন সবের উপর দিয়ে।
উত্তর আরব সাগরে ভারতের রণতরীর সঙ্গে পাক যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি। দুই দেশের কূটনৈতিক সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। তবে পাক সেনা আধিকারিকদের এই কুকীর্তি এই প্রথমবার নয়। ১২ বছর আগে জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে নিজেদের নৌজাহাজ ছিনতাই করে মার্কিন জাহাজে হামলার ছক কষেছিল পাক আধিকারিকরা। সম্প্রতি ভারতীয় জাহাজে হামলার পর সামনে এল অতীতের সেই কুকর্ম। যদিও শেষ পর্যন্ত জঙ্গি ও কিছু আধিকারিকদের মিলিত সেই ষড়যন্ত্র বানচাল হয়। স্টিভ কলের লেখা বই ‘ডিরেক্টরেট এস’-এ উঠে এসেছে সেই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের কথা।
২০১৪ সালে লেফটেন্যান্ট জিশান রফিক ও ওয়াইস জাখরানি নামের দুই পাক নৌসেনার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এই ষড়যন্ত্র। এরা দু’জনেই ছিলেন সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দার চর। সেই সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ছিল ‘পিএনএস জুলফিকার’। চিনের তৈরি এই যুদ্ধ জাহাজকে ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএনএস-এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। দুই পাক আধিকারিক গোপনে জুলফিকারে অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি মিসাইল রুম ও অপারেশন রুমের দরজার চাবি নকল করে। যাতে কমান্ডিং অফিসারের অজান্তে গোপন কক্ষে তারা প্রবেশ করতে পারে।
১২ বছর আগে জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে নিজেদের নৌজাহাজ ছিনতাই করে মার্কিন জাহাজে হামলার ছক কষেছিল পাক আধিকারিকরা। সম্প্রতি ভারতীয় জাহাজে হামলার পর সামনে এল অতীতের সেই কুকর্ম।ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রফিক ও জাখরানি জুলফিকারে ওঠেন। সেনার পোশাকে জঙ্গিরা তখন ছোট নৌকায় বন্দরের দিকে আসছিল। বিষয়টি এক অফিসারের নজরে আসতেই তিনি সকলকে সতর্ক করেন। শুরু হয় জঙ্গিদের সঙ্গে সেনার গুলির লড়াই। জাহাজের ভিতরেও শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। রফিক, জাখরানি-সহ ৩ জন গুলির লড়াইয়ে নিহত হন। নৌজাহাজে থাকা অন্যান্য মারণ অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগই পাননি তারা। হামলার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর, করাচিতে থাকা ভারতের এক এজেন্টের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ‘র’ (RAW) জানায়, হামলার সময় পিএনএস জুলফিকারে একটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল। স্টিভ কলের দাবি, যদি সেই ষড়যন্ত্র সফল হত, তাহলে তা হত ইতিহাসে প্রথম পরমাণু অস্ত্রাগারে সন্ত্রাসী হামলা।
জানা যায়, জঙ্গিরা এই হামলার ষড়যন্ত্র কষেছিল ১৯৭৫ সালে সোভিয়েত নৌবাহিনীতে ঘটা এক বিদ্রোহের অনুকরণে। সেই সময় সোভিয়েত নৌসেনার এক বিদ্রোহী ক্যাপ্টেন নৌ-ফ্রিগেট ‘স্টোরোজেভয়’ ছিনতাই করে বাল্টিক সাগরে নিয়ে আসেন। এরপর অবশ্য সোভিয়েত যুদ্ধবিমান ওই জাহাজে হামলা চালায়। এক বছর পর বিচারে অভিযুক্ত ক্যাপ্টেনের ফাঁসি হয়। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নৌসেনা আধিকারিকরাও অবশ্য এই ঘটনার পর রেহাই পাননি। ষড়যন্ত্রে জড়িত পাকিস্তান নৌবাহিনীর জীবিত ৫ আধিকারিককে ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও ২০২৪ সালে অজ্ঞাত কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড রদ হয়ে যায়। অবশ্য সন্ত্রাসে লিপ্ত ৫ আধিকারিক এখন কোথায় তা কেউ জানে না।
একটানা ভারী বর্ষণে বিধ্বস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সিকিম, ভুটান ও নেপাল পাহাড়ে ভূমিধস অব্যাহত। সিকিম-শিলিগুড়ি সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ২০ মাইল এলাকায় ফের অবরুদ্ধ। গ্যাংটক জেলায় একাধিক স্থানে ভূমিধস। কাদার স্রোতে তলিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে সড়ক। একই পরিস্থিতি উত্তর ও পশ্চিম সিকিমে। ভূমিধসে সড়ক আটকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে নেপাল ও ভুটানের বিভিন্ন এলাকা। ওই পরিস্থিতিতে পুজোর মুখে সিকিম, ভুটান ও নেপালের পর্যটন শিল্প উদ্বেগ বাড়ছে ট্যুর অপারেটর মহলে।
বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে উত্তর সিকিমে। শুক্রবার ভোরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাং-এ ২০ মাইল এলাকায় অবরুদ্ধ হয়েছে। জাতীয় সড়কে যানবাহন বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক। সড়কের উপর দিয়ে পাথর-কাদার স্রোত বইছে। ভূমিধসে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিকিমের গ্যাংটক জেলা। একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদা ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়েছে। ধসে চাপা পড়ে বাড়ি-গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কবি টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। দলটি ভূমিধস-কবলিত এলাকা, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে অবরুদ্ধ রাস্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ঘুরে দেখে।
পাহাড় ধসে আটকে উত্তর সিকিমের পাহাড়ি রাস্তা। ছবি- সংগৃহীতএলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা হাইওয়ে, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক রোড, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে, আরিথাং এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা। রাস্তার অনেক অংশ এখনও বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু বহুতল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সিচের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং এনচে স্কুলের ৩৩/১১ কেভি সুইচিং স্টেশনের কাছে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ ঝুঁকির কারণ হয়েছে।
উত্তর সিকিমেও ব্যপক ভূমিধসের খবর মিলেছে। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংডা একাকায় স্থানীয় বিধায়ক থেনলে শেরিং ভুটিয়ার নেতৃত্বে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও সড়ক পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। বৃষ্টির জল যেন মাটির গভীরে প্রবেশ করে ধসের ঝুঁকি না বাড়ায় সেজন্য ভূমিধস-প্রবণ এলাকাগুলোতে ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ভূমিধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতে বাড়তি সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং-এ ভূমিধসে সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।
জল-কাদার স্রোতে ভেসে গিয়েছে রাস্তা। ছবি-সংগৃহীতপূর্ব সিকিমের দুগাতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নামেন। গ্যাংটকের সঙ্গে সংযোগকারী এনএইচ-১০-এর একমাত্র বিকল্প পথ এটি। এদিকে নেপালের জামিরেঘাটে ভূমিধস নেমে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বিশাল ভূমিধসের কারণে কাঠমান্ডুগামী উভয় দিকের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। ধাদিং-এর ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ভূমিধসের ব্যাপকতার কারণে রাস্তা পরিষ্কার করতে কিছু সময় লাগবে। কৃষ্ণভিরেও ভূমিধসের ফলে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভুটানের দোচুলা-ওয়াংদুয়ে পিএনএইচ-এর পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় (৪৫.২০ কিমি পয়েন্টে) একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু এলাকা অবরুদ্ধ হয়েছে।
গ্ল্যামারদুনিয়ার ব্যক্তিত্ব মানেই সর্বক্ষণ পাপারাজ্জি থেকে নেটভুবনের আতশকাচে। পান থেকে চুন খসলেই ট্রোলারদের বন্দুকবাজি! আর নায়িকা হলে তো কথাই নেই। তাঁর শরীরী গড়ন থেকে পোশাকের মাপ-ঝুল সবই চর্চায়। এবার মাতৃত্বকালীন ওজন বৃদ্ধির জন্য নেটভুবনের নীতিপুলিশদের কটাক্ষের শিকার ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif)। মাসখানেক আগে কুক্কু কোহলির শেষকৃত্যের সময় প্রথম নায়িকার শরীরী গড়ন নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তবে গত সোমবার আম্বানিদের গণপতি উৎসবে যোগ দেওয়ার পর থেকে কটাক্ষ, আক্রমণাত্মক বাক্যবাণের বহর যেন আর বেড়েছে। উঠতে-বসতে খোঁটা শুনতে হচ্ছে ক্যাটরিনা কাইফকে।
সম্প্রতি ফটোশিকারীদের লেন্সে অভিনেত্রীর যে শরীরী গড়ন ধরা পড়েছে, তা নিয়ে সোশাল পাড়ায় ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানোর জোগাড় নিন্দুকদের! মা হওয়ার পর ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।পঁচিশ সালের নভেম্বর মাসে মা-বাবা হিসেবে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ভিকি কৌশল। তারকাদম্পতির সংসার আলো করে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে পুত্রসন্তান। ভিকি বর্তমানে অমর কৌশিকের ‘মহাবতার’ সিনেমার শুটে ব্যস্ত থাকলেও ক্যাটরিনা আপাতত চুটিয়ে মাতৃত্ব উপভোগ করছেন। তবে সম্প্রতি ফটোশিকারীদের লেন্সে অভিনেত্রীর যে শরীরী গড়ন ধরা পড়েছে, তা নিয়ে সোশাল পাড়ায় ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানোর জোগাড় নিন্দুকদের! মা হওয়ার পর ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। আর পাঁচজন মহিলাকেও এহেন শারীরীক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেলেব বলে ছাড় পাননি ক্যাটরিনা কাইফ। অভিনেত্রীর ভিডিও ভাইরাল হতেই একাংশের কটাক্ষ, ‘মা হওয়ার পর চেহারার কী হাল! এত্ত মোটা হলেন কীভাবে?’ কারও বা কটুক্তি, ‘মা হওয়ার পর তো ফুলে ঢোল হয়ে গিয়েছেন।’ কেউ বা ক্যাটরিনার অতীতের ছিপছিপে গড়নের তুলনা টেনে সমালোচনা শুরু করেছেন। এহেন নানা কটাক্ষবাণ ধেয়ে আসতেই ভিকিপত্নীর হয়ে নিন্দুকদের যোগ্য জবাব ছুড়তে মাঠে নেমেছেন আরেক অভিনেত্রী।
মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনার ‘বডি শেমিং’ “একজন নারী তাঁর শরীরে একটি প্রাণ ধারণ করেছে, জন্ম দিয়েছে। তাই সন্তান জন্মের পর তাঁকে দেখতে কেমন লাগছে? সেটা কারও কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”মা হওয়ার পর থেকে ক্যাটরিনা নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালেই রাখেন। তবে সম্প্রতি আম্বানিদের গণেশ পুজোয় অভিনেত্রীর স্থূলকায় গড়ন ফটোশিকারিদের লেন্সবন্দি হয়। যে ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়তেই ‘বডি শেমিং’য়ের শিকার নায়িকা। কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়়ে এবার ভিকিপত্নীর হয়ে মাঠে নামলেন টেলিপর্দার ‘পাবর্তী’ সোনারিকা ভাদোরিয়া (Sonarika Bhadoria)। তাঁর মন্তব্য, “এহেন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শুধু ক্যাটরিনাকে নয় বরং সদ্য মাতৃত্বের ইনিংস শুরু করা সব নারীদেরই যেতে হয়। তাঁদের শারীরিক গড়ন নিয়েও বিচার করা হয়। একজন নারী তাঁর শরীরে একটি প্রাণ ধারণ করেছে, জন্ম দিয়েছে। তাই সন্তান জন্মের পর তাঁকে দেখতে কেমন লাগছে? সেটা কারও কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
সদ্য মাতৃত্বের ইনিংসে পা দেওয়া মহিলাদের চেহারা নিয়ে কথা বলা আগে সংবেদনশীল হওয়া দরকার বলেও জানান সোনারিক ভাদোরিয়া। ক্যাটরিনার উদ্দেশে টেলিপর্দার ‘পাবর্তী’র মন্তব্য, “তুমি এমন এক অধ্যায়ের প্রমাণ বহন করছ, যার মূল্য তুমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। তাই প্রসব-পরবর্তী শারীরিক গড়ন নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এটা তোমার গল্প, তোমার শক্তি। মাতৃত্ব তোমার শরীরে চিহ্ন রেখেছে বলে তোমার সৌন্দর্য কমে যায়নি।”
View this post on InstagramA post shared by Sonarika Bhadoria (@bsonarika)
ভূতনি চর থেকে জল কবে পুরোপুরি নামবে কেউ জানে না। পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন নেই। এখানে উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে আধাসেনা। জেলা প্রশাসনের তরফে চলছে সতর্কতার মাইকিং। সরকারি নৌকা না-মেলায় দুর্গতরা টিনের ডোঙায় কিংবা গাঁটের টাকা খরচ করে অন্য কোনওভাবে যাতায়াত করছেন। বানভাসিদের জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
ত্রাণ শিবিরগুলোতে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিলি হচ্ছে। যাঁরা এখনও বাড়িতে আছেন তাঁরা শুকনো খাবার পাচ্ছেন। পাশাপাশি চিকিৎসাও চলছে। তৈরি রাখা হয়েছে বোট অ্যাম্বুল্যান্স। গঙ্গার বন্যায় এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানিকচক ব্লকের ভূতনি চর। বৃহস্পতিবার ভূতনির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেতু এলাকায় পরিদর্শনে যান জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের কর্তারা।
অন্যদিকে, বিলাইমারিতে যান মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি জানান, গঙ্গা ভাঙনে মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েত নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পথে। গঙ্গা আর ফুলহারের দূরত্ব এখন মাত্র পাচশো মিটার। এই এলাকায় রয়েছে ফুলহারের শাখা কোশি নদী। যদি কোনও ভাবে তিনটি নদী এক হয়ে যায় রতুয়া-১ ব্লকের কাহালা, দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ অধিকাংশ এলাকা গঙ্গাগর্ভে হারিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার গঙ্গা ও ফুলহারের জলস্তর অনেকটা নেমেছে।
মালদহে এবারের গঙ্গা ভাঙন গত দু’বছরের তুলনায় অনেক ভয়াবহ বলেই মনে করছে রাজ্য। অভিযোগ, বিগত সরকার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে এবার মানুষকে এতটা সমস্যায় পড়তে হত না! ভাঙন রোধে শুধু বাজেটে অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। এই বিষয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সেচ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু।
এ দিকে, ইংলিশবাজারের বিধায়ক তথা বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি মালদহের ভূতনিতে প্লাবন কবলিতদের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে ভাঙন রোধে কেন্দ্রের বিপুল বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির জেরেই ভূতনির এই পরিণতি। বৃহস্পতিবার বানভাসি রতুয়া-১ ব্লকের বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মন্ত্রী যান। বন্যা ও ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে তিনি সেখানেই জানান, বিহারের সকরিগলিতে একটি ক্যানেল তৈরি করে গঙ্গার প্রবাহকে দু’ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা হলে মালদহে নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ভাঙন ঠেকাতে এবারের বাজেটে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু শুধু বাজেটে অর্থ ধরলেই হবে না। গঙ্গা ভাঙন নিয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে বসতে হবে। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। সেচ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে তার বেশিরভাগ খরচ হবে মালদহে। এখন আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞ দলের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ওরা সবকিছু খতিয়ে দেখে এস্টিমেট তৈরি করবে। এরপর গঙ্গায় ড্রেজিং হবে।
শুক্রবার সকালে ভারতের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে জাপানের মহিলা ক্রিকেট দল। তবে গতবারের সোনাজয়ী ভারতের এশিয়ান গেমসের জার্সিতে দেখা গেল না বিসিসিআই এবং স্পনসরের লোগো। বদলে হরমনপ্রীত কৌররা অন্য নকশার জার্সি পরে মাঠে নামলেন। প্রশ্ন হল, কেন এই বদল?
ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সূচিতে ভারতীয় দল বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই আইসিসি-র প্রতিযোগিতা বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ক্রিকেটারদের পোশাকে থাকে বিসিসিআই নির্ধারিত কিট। পাশাপাশি থাকে কিট প্রস্তুতকারকের পরিচয় এবং বাণিজ্যিক স্পনসরের লোগো। কিন্তু এশিয়ান গেমসের ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। এখানে দীপ্তি শর্মা, শেফালি বর্মারা কেবল বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি নয়, গোটা ভারতীয় ক্রীড়া দলের অংশ। সেই কারণে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কিট আসে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বা আইওএ-র অধীনে থাকা ‘টিম ইন্ডিয়া’ পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। আইওএ-র ২০২৬ সালের কিট-সংক্রান্ত নথিতেও এশিয়ান গেমসের জন্য গোটা ভারতীয় কন্টিনজেন্টের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানসম্মত কিট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক একাধিক স্পোর্টস ইভেন্টে সব দেশের ক্রীড়াবিদদের নির্দিষ্ট জাতীয় কিট পরতে হয়। অ্যাথলেটিক্স, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, হকি বা ক্রিকেট-সহ সমস্ত খেলাতেই ভারতীয় দলের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নকশা, রং ও কাপড়ের কিট ব্যবহার করতে হয়। তাই বিভিন্ন খেলার ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পোশাকে একটা মিল থাকে। অন্যদিকে, বিসিসিআইয়ের জার্সিতে সাধারণত স্পনসর ও কিট প্রস্তুতকারকের লোগো থাকে। কিন্তু এশিয়ান গেমসে ওসিএ ও আইওসি-র নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত ক্রীড়া সংস্থার বাণিজ্যিক স্পনসরের প্রচার করা যায় না। তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যে জার্সি পরেন, এশিয়ান গেমসে সেই জার্সি পরা যায় না।
এই কারণেই এশিয়ান গেমসের মাঠে পরিচিত জার্সির বদলে অন্য কিটে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। তবে জার্সি আলাদা হলেও পরিচয় একটাই। টিম ইন্ডিয়া। উল্লেখ্য, জাপানকে মাত্র ৫৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে হরমনপ্রীতের দল। শ্রী চরণী বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি শেফালি বর্মার ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে মাত্র পাঁচ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে ভারত।
মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতার সংখ্যা বাড়ছে। এবার ভারতে জন্মানো একটি মাদী চিতা জন্ম দিল ৪টি চিতা শাবকের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে শুরু হওয়া চিতা পুনর্বাসন কর্মসূচির চতুর্থ বর্ষপূর্তির ঠিক পরদিন, শুক্রবার কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এই সুখবর দিলেন।
এক্স হ্যান্ডেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লিখেছেন, “প্রজেক্ট চিতা-র জন্য সত্যিই এক ঐতিহাসিক এবং আনন্দঘন মুহূর্ত! ভারতের চিতা প্রকল্পটির চার বছর পূর্তির ঠিক পরদিনই, ভারতে জন্ম নেওয়া মাদী চিতা ‘কেজিপি১২’ কুনোতে চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে।” যাদব আরও উল্লেখ করেন, নতুন করে ৪ শাবকের জন্ম ভারতে চিতা সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রতিফলন। অথচ ১৯৫২ সালে বিশ্বের দ্রুততম এই স্থলচর প্রাণীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
A truly historic and joyous moment for Project Cheetah!
A day after India’s Cheetah Project completed four years, KGP12, an Indian-born female cheetah, has given birth to four cubs in Kuno.
Four years, four new lives—a beautiful symbol of hope, resilience and the growing… pic.twitter.com/f1zbqSvx1b
— Bhupender Yadav (@byadavbjp) September 18, 2026
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী কুনো জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “চার বছর, চারটি নতুন প্রাণ— ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি এবং ভারতে চিতা সংরক্ষণের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের এক সুন্দর প্রতীক। কুনো এবং ‘প্রজেক্ট চিতা’-র পুরো পরিবারকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।”
২০১৯ সালে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফেরে মোদি সরকার। এরপরই সূচনা ‘প্রোজেক্ট চিতা’র। ২০২২ সালে নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোট ১০টি চিতা আনা হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে। পরবর্তী সময়ে নানা দেশ থেকে মোট ২০টি চিতাকে ভারতে আনা হয়েছিল। তখন থেকেই পরিবেশবিদদের নজর ছিল এদিকে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন পরিবেশে মাত্র ৪০ শতাংশ চিতাই বাঁচতে পারে। সেই হিসেবে চিতার নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে ভারত এগিয়ে। এটাই ‘প্রোজেক্ট চিতা’র বড় সাফল্য। এর সঙ্গেই শাবকজন্ম ঘিরে সংখ্যায় আরও বাড়ছে চিতারা। যা আশাপ্রদ।
হুবহু একরকম, এক ঝলক দেখলে মনে হবে জীবন্ত। তবে খানিক পরে সম্বিত ফেরে। নিখুঁত মুখের গড়ন, মাথার চুল থেকে চশমাও। মোমের মূর্তির মধ্যে অভাবে কেবল যেন প্রাণ প্রতিষ্ঠার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন ছিল গতকাল, বৃহস্পতিবার। দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন হয়েছে ধুমধাম করে। সেই জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মোমের মূর্তি বানালেন আসানসোলের ভাস্কর শিল্পী সুশান্ত রায়।
মোমের মূর্তি তৈরি করে বেশ কয়েক দশক ধরেই সমাদৃত আসানসোলের বাসিন্দা শিল্পী সুশান্ত রায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, চলচ্চিত্র অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের মোমের মূর্তি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি কিংবদন্তী ফুটবলার লিওলেন মেসির মোমের মূর্তিও তৈরি করেছেন শিল্পী। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মূর্তি (Narendra Modi Wax Statue) বানালেন শিল্পী। এর আগেও মোদির মূর্তি বানিয়েছেন সুশান্ত রায়। ওই মূর্তি আসানসোলে তাঁর নিজস্ব মিউজিয়ামে শোভাও পাচ্ছে। কিন্তু এবারের মূর্তি অন্যরকম। জড়িয়ে আছে বাঙালিয়ানা।
শিল্পের সঙ্গে শিল্পী। নিজস্ব চিত্রতৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফল ঘোষণার পরেই ধুতি-পাঞ্জাবি পোশাকে বাঙালিবাবু সেজে দিল্লির বিজেপির সদর দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই বাঙালি চেহারাকেই তিনি নিখুঁতভাবে মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের রূপরেখাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মটি দেখতে হুবহু নরেন্দ্র মোদির মতোই। দূর থেকে দেখা একঝলক স্মৃতি, বেশ কিছু ছবি ও শারীরিক পরিমাপের নিখুঁত আন্দাজ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ দুই মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে এটি তৈরি করেছেন সুশান্তবাবু। মূর্তির দাড়ি ও মাথার প্রতিটি চুল বসানো হয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে। সঙ্গে পরানো হয়েছে বাঙালির প্রিয় ঐতিহ্যবাহী ধুতি-পাঞ্জাবি।
ইচ্ছে ছিল জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সরাসরি তুলে দেবেন নিজের হাতে গড়া ভালোবাসার উপহার। কিন্তু সরকারি প্রোটোকল ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে সেই সুবর্ণ সুযোগ মেলেনি। তবে থেমে থাকেনি আসানসোলের প্রখ্যাত ভাস্কর সুশান্ত রায়ের শিল্পভাবনা। নিজের তৈরি অবিকল ‘জীবন্ত’ নরেন্দ্র মোদির মোমের মূর্তিটি নিয়ে আসানসোল থেকে সুদূর কলকাতা পৌঁছে যান শিল্পী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে ও সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানে ওই মূর্তি উন্মোচিতও হয়েছে। মূর্তিটি কোথায় রাখা হবে? সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে খবর।
উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে অখিলেশ যাদব কি আত্মঘাতী গোল করে ফেলেছেন? তাঁর মন্তব্যই কি ভোট ময়দানে এগিয়ে দিল যোগী আদিত্যনাথের বিজেপিকে? উত্তর খুঁজছে যোগীরাজ্যের ‘জাঠল্যান্ড’।
বিতর্কের সূত্রপাত মাস দেড়েক আগে। উত্তরপ্রদেশের আগামী নির্বাচনে জোট সমীকরণ নিয়ে বলতে গিয়ে অখিলেশ যাদব রাষ্ট্রীয় লোকদলের শীর্ষ নেতা জয়ন্ত চৌধুরীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। আসলে ২০২২ সালে জয়ন্ত চৌধুরী সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটে ভোটে লড়েছিলেন। পরে ২০২৪ সালে তিনি যোগ দেন এনডিএ-তে। কেন্দ্রে মন্ত্রিত্ব পান। লোকদলের প্রতিষ্ঠাতা তথা জাঠ কৃষক নেতা চৌধুরী চরণ সিংকে ভারতরত্ন দেয় মোদি সরকার। জয়ন্ত চৌধুরী এখন পুরোদস্তুর এনডিএর হয়ে ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাতেই ক্ষুব্ধ অখিলেশ বলে দেন, “আমরা চার আনা থেকে ওদের টাকা বানিয়েছি। তাও আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”
সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমোর এই ‘চার আনা’ মন্তব্য মোটেই ভালোভাবে নেয়নি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের জাঠরা। অখিলেশ ওই মন্তব্য করেছিলেন জয়ন্ত চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের প্রচার করছেন সমগ্র জাঠ সমাজের অপমান হিসাবে। চৌধুরী চরণ সিংয়ের অপমান হিসাবে। এবং চৌধুরী চরণ সিংয়ের নামে গোটা জাট সমাজকে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। ২০২২ সালে জাট বেল্টে ভালোরকম ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপি। সেটা মূলত জাঠ এবং মুসলিম ভোটের একত্রীকরণের জন্য। আবার ২০২৪ সালে জয়ন্ত চৌধুরী বিজেপির সঙ্গে জোট করে লড়াই করলেও স্থানীয় কিছু শক্তিশালী জাট প্রার্থী থাকায় এবং মুসলিমদের একচেটিয়া সমর্থন থাকায় জাঠ অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে মোটামুটি ভালো ফল করেছিলেন অখিলেশ।
কিন্তু এবার তাঁর এই ‘চার আনা’ মন্তব্য গোটা জাঠ সমাজকে একত্রিত করে দিতে পারে। সপার অন্দরে সেই আশঙ্কা কাজ করছে। এমনিতে জাঠরা আবেগপ্রবণ। তার উপর চৌধুরী চরণ সিংয়ের পরিবারের সদস্যদের অপমান তাঁরা মানবেন কি? সমাজবাদী পার্টি কংগ্রেসের আশঙ্কা, জাঠ এবং গুজ্জররা যদি একচেটিয়া বিজেপিকে ভোট দেন, বা জাট এবং ঠাকুররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান, তাহলে বহু জেলায় ফলাফল একপেশে হতে পারে। মুজফফরনগর, বাঘপত, শামলি, মীরাট, মথুরা, আগ্রা, আলিগড়, বুলন্দশহরের মতো জেলায় আরও চাপে পড়তে পারে সমাজবাদী পার্টি। সেটা বুঝে অখিলেশ ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছেন। দাবি করছেন, ওই মন্তব্য জয়ন্ত চৌধুরীর উদ্দেশে করা নয়। কিন্তু তাতে লাভ হবে কি?
মার্কিন-ইরান সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে কোনও ধরনের সামরিক সেনা মোতায়েন করতে রাজি নয় দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার একথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। তাঁর সাফ কথা, মধ্যপ্রাচ্যে তিনি এমন কোনও পদক্ষেপ করতে রাজি নন যা দক্ষিণ কোরিয়াকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবু তিনি যে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন তা পরিষ্কার করে দিলেন মিউং।
তবে সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, সেনা না পাঠালেও বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহনের রুট নিরাপদ রাখতে ন্যূনতম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সিওল। আসলে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আমদানিকৃত তেলের ৬৩ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এহেন অবস্থায় ট্রাম্পের ‘রক্তচক্ষু’ উপেক্ষা করেই নিজেদের অবস্থানে স্থির থাকতে চাইছে সিওল।
দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মজবুত ভিত্তি রয়েছে দুই দেশের সম্পর্কে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মসনদে প্রত্যাবর্তনের পর ইরান সংঘাত এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে সামরিক জোট ও যৌথ মহড়া সংক্রান্ত জটিলতাও একটা ফ্যাক্টর। গত আগস্টে ট্রাম্প আচমকাই পেন্টাগনকে দুই দেশের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। জানিয়ে দেন, এটা ‘অত্যধিক ব্যয়বহুল’। তাঁর এহেন নির্দেশকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘উসকানিমূলক’ সংকেত হিসেবে অভিহিত করছে ওয়াকিবহাল মহল। এছাড়াও ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি বলেও সিওলকে আগেই তোপ দেগেছেন ট্রাম্প। আজকের এই ঘোষণার পর আমেরিকা কী মন্তব্য করে সেটাই এখন দেখার।
শিশুখাদ্য মানেই যেন নেসলে। বিখ্যাত কোম্পানির একাধিক প্রোডাক্ট চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের মুখে তুলে দেন বাবা-মায়েরা। কিন্তু সেই খাবারেই ভেজাল! পণ্যের বিজ্ঞাপনে যা প্রকাশ করা হচ্ছে, বাস্তবে সেই মানের পণ্য দেওয়া হচ্ছে না, এমনটাই অভিযোগ নেসলের (Nestle) বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে এফএসএসএআইয়ের তরফে। উল্লেখ্য, অন্যান্য খাবারের তুলনায় বেবিফুডের নিয়মাবলিতে অনেক বেশি কড়াকড়ি থাকে।
মূলত তিনটি বেবিফুড নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। Infant Nutrition, NAN Excella এবং Lactogen-এই তিনটি খাবারের নমুনা পরীক্ষার সময়ে গরমিল ধরা পড়ে। যে পরিমাণ বায়োটিন এই খাবারে রয়েছে বলে দাবি করছে উৎপাদক সংস্থা, নমুনায় তার থেকে কম বায়োটিন মিলেছে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হলেও ফলাফল একই ছিল। Lactogen Pro 1এর প্যাকেটে দাবি করা হয়েছে যে ব্যবহৃত হে প্রোটিন সহজপাচ্য। সেই দাবি সঠিক নয় বলেই জানিয়েছে এফএসএসএআই।
কেন্দ্রীয় সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নেসলের তৈরি বেবিফুডের বিজ্ঞাপনে কিছু দাবি করা হচ্ছে যা সত্যি নয়। কিন্তু সেই দাবি উপর ভরসা করেই শিশুদের জন্য এসব পণ্য কিনছেন আমজনতা। এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে পণ্যগুলি বিক্রির ক্ষেত্রে এখনও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এফএসএসএআইয়ের নোটিস পেয়ে তার জবাবও দিয়েছে নেসলে। জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মাবলি মেনে চলে তারা। আগামীদিনেও তা বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, দেশের খাদ্য়পণ্যকে সুরক্ষিত রাখতে জোরকদমে কাজ করছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। গত মাসেই ডাবরের মধু, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, তিল তেল, ঘি, নারকেল জল এবং নারকেল দুধের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের বিজ্ঞাপন ও দাবি-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কম্পাউন্ড ফুডের ক্ষেত্রে কোনও খাদ্যপণ্যকেই ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ বলে দাবি করা যায় না। তা সত্ত্বেও একাধিক পণ্যকে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ বলে এতদিন প্রচার চালিয়েছে ডাবর। সেকারণেই শাস্তির মুখে পড়ে তাদের পণ্য।
বনদপ্তরের গেস্ট ১৭ পুজোয় পর্যটন টানতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ। অক্টোবরের মাঝামাঝি পুজো শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে গেস্ট হাউসগুলির বুকিং প্রায় ৮০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের উত্তরবঙ্গে থাকা গেস্ট হাউসগুলির অধিকাংশ রুম বুকিং হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে ঝাড়গ্রাম হাতিবাড়ির গেস্ট হাউস এখনই হাউসফুল হয়ে গিয়েছে। ডব্লুইবিএফডিসি সূত্রে খবর, পুজোয় উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। তাই পুজোয় সেখানে গেস্ট হাউসগুলিতেও চাপ থাকে। তবে এবার দক্ষিণবঙ্গেও বুকিং ভালোই হচ্ছে। হাতিবাড়ি গেস্ট হাউসের কোনও ঘর আর খালি নেই। পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট, বিষ্ণুপুরের মুকুটমণিপুর গেস্ট হাউসেরও অধিকাংশ ঘর পর্যটকরা বুকিং করে নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বাকিগুলিও হাউসফুল হয়ে যাবে বলে আশাবাদী বনদপ্তর।
গত বছর বিজয়ার পরই উত্তরবঙ্গে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। হড়পা বানে ভেসে গিয়েছিল ডুয়ার্স। বুকিং বাতিল করে দিয়েছিলেন পর্যটকরা। জলদাপাড়া, গরুমারা জলের তলায় চলে গিয়েছিল। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে লক্ষ্মী হাতছাড়া হয়েছিল দপ্তরের। অনেকে উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ ফিরিয়ে দক্ষিণবঙ্গে ভিড় জমান। উত্তরবঙ্গে ক্ষতি হলেও দক্ষিণবঙ্গ থেকে গত বছর বনদপ্তর ভালো আয় করেছিল। এবারও পুজোয় দক্ষিণবঙ্গ ভালো পর্যটক টানতে চলেছে। জঙ্গলমহলে থাকা বন দপ্তরের গেস্ট হাউস, টেন্ট, কটেজে বুকিংও বাড়ছে। বিশেষ করে নেপালে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, মুকুটমণিপুর গেস্ট হাউসেরও অধিকাংশ ঘর পর্যটকরা বুকিং করে নিয়েছেন। টেক্কা দিচ্ছে উত্তরের সঙ্গে।
দুর্যোগের পরই দক্ষিণবঙ্গে পর্যটকদের বুকিং বেড়ে যায়। দপ্তরের আধিকারিদের মতে, উত্তরবঙ্গে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। তার উপর সদ্য নেপালে এত বড় দুর্যোগ ঘটেছে। গত বছর পুজোর মরশুমে উত্তরবঙ্গেও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। যে কারণে পাহাড়ে যাত্রা নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক একটা কাজ করছে। বিশেষ করে যাঁরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যেতে চান তাঁরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গ তাঁদের জন্য নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্র। এদিকে বুধবার থেকে পর্যটকদের জন্য জঙ্গল খুলে গিয়েছে। পুজোয় সাফারি বুকিংও বাড়ছে। জঙ্গলে প্রবেশমূল্যও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার পুজোয় পর্যটকদের হাত ধরে ভালো টাকা ঘরে তুলতে চলেছে বনদপ্তর।
দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে টানটান নাটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! শুক্রবার আদি দলের নাম, প্রতীক হারানোর পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানালেন, ‘‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।” অর্থাৎ আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান সমর্থন করছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।
২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পর আজ, ২০২৬ সাল অর্থাৎ ১৫ বছর পর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের কটাক্ষ, কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কি লড়বেন মমতা? নাকি সেখানেও অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন? তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন নেত্রী। ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পর আজ, ২০২৬ সাল অর্থাৎ ১৫ বছর পর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের কটাক্ষ, নিজের সব হারিয়ে এখন কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব ছবিপ্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। রাতেই আচমকা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ঘাসফুল প্রতীকটি ফ্রিজ করা হচ্ছে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূল বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, কেউই এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। বিকল্প প্রতীক বেছে নিতে হবে দুই শিবিরকে। শুক্রবার সেইমতো মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ও ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ‘খাম’ প্রতীক।
কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘‘নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করব বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের জন্য সমর্থন। ওরা সিস্টার পার্টি।” জোট প্রসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘রাহুলজি গতকাল (শুক্রবার) কল করেছিলেন। আমরা সকলে একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমরা সমস্ত স্বাভাবিক জোটকে সমর্থন করব। আমাদের সিস্টার দলকে সমর্থন করব।”এরপরই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়! নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। আর তারপর তিনি হলদিয়া ফিরে মহকুমাশাসকের দপ্তরে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। আর তারপর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘‘নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করব বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের জন্য সমর্থন। ওরা সিস্টার পার্টি।” জোট প্রসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘রাহুলজি গতকাল (শুক্রবার) কল করেছিলেন। আমরা সকলে একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমরা সমস্ত স্বাভাবিক জোটকে সমর্থন করব। আমাদের সিস্টার দলকে সমর্থন করব।”
আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক তো দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে মতানৈক্যের জেরে ‘হাত’ শিবির ছেড়ে ঘাসফুল প্রতীকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। বছরের পর বছর লোকসভা, বিধানসভা ভোটে নিজের শক্তিতে লড়াইয়ের পর ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বাম সরকারের অবসান ঘটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শেষ। তারপর কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা ছাড়া কিছুই হয়নি সদ্যপ্রাক্তন দল তৃণমূল কংগ্রেসের। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ২৮ বছর পর নিজের হাতে গড়া দল, প্রতীক সব হারিয়ে এখন ‘সিস্টার পার্টি’ বলে ফের কংগ্রেসেরই ‘হাত’ ধরলেন মমতা।
শুক্রবার ভোররাতে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন যুবতী। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার জন্য ফোন করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, তাঁদের জানানো হয় বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য গাড়ি ধুয়ে রাখা হয়েছে। পাঠাতে হলে ১ হাজার টাকা দিতে হবে! অগত্যা, গাড়িভাড়া করে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয় পরিবার।অবশেষে, সেই ভাড়া গাড়িতেই সন্তান প্রসব করলেন মহিলা। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের পানাগড়ে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ারর আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
দুর্গাপুরের ত্রিলোকচন্দ্রপুরের বাসিন্দা আকাশ বাগদী। তাঁর স্ত্রী পুজা বাগদী অন্তঃসত্ত্বা। শুক্রবার ভোররাত থেকে তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা পানাগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার জন্য যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে অ্যাম্বুল্যান্স গাড়ি ধুয়ে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তরফে জানানো হয়। এমনকী গাড়ি পাঠাতে হলে এক হাজার টাকা দিতে হবে বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ। এ দিকে বাড়তে থাকে প্রসব যন্ত্রণা। শেষ পর্যন্ত আর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষা না করে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় একটি গাড়ি ভাড়া করেন আকাশ।
সেই গাড়িতেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে পৌঁছনোর আগেই সন্তান প্রসব করেন পুজা। সদ্যোজাত সন্তান ও মাকে নিয়ে পানাগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। পরিবারের সদস্য চম্পা বাগদীর অভিযোগ, “গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতিদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা থাকার পরও জরুরি মুহূর্তে সেই পরিষেবা কেন মিলল না? কেন টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে আসতে হল? গাড়ির ভিতরেই সন্তানের প্রসব হল। খারাপ কিছু হলে সেই দায়িত্ব কে নিত?” ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ পানাগড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে।