রাজ্যে পালাবদলে ভোল বদলাচ্ছে দুর্গাপুজোর। উত্তর থেকে দক্ষিণ, দুর্নীতির খোলনলচে বদলে তৈরি হচ্ছে নতুন কমিটি। এবার সেই ‘সাফাই’ অভিযানের তালিকায় নাম উঠে এল টালা প্রত্য়য়ের। গত কয়েক বছরেই যে পুজো শহর কলকাতার প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। পুজোকে ঘিরে একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ টালা প্রত্যয়ের কমিটি থেকে পুজো শিল্পী, সবেতেই বদল ঘটছে।
গত কয়েক বছর ধরে পুজোর শেষ দিনই আগামী বছরের পুজোর শিল্পীর নাম ঘোষণা করার ট্রেন্ড চালু করেছিল টালা প্রত্যয়। যদিও গত বছর সেই নাম নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়। ক্লাবের সঙ্গে মনোমালিন্যে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় শিল্পী। সুশান্ত শিবাণী পালের বিকল্প হিসেবে ভবতোষ সুতারকে বেছে নেয় ক্লাব। এবারও ক্লাবের ১০১ তম বর্ষে তাঁর সৃজনেই সেজে ওঠার কথা ছিল টালা প্রত্যয়ের। কিন্তু তৃণমূল সরকারের জমানায় ইতি ঘটতেই ছন্দপতন। কাজ শুরু হওয়া সত্ত্বেও তা বন্ধ করে দেওয়া হল। পূর্বতন কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনি ভাবে খেলার মাঠ দখল করে পুজো করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পুজোর সময় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়দের সমস্যার মধ্যে পড়তে হত। এখানেই শেষ নয়, পুজোর নামে তোলাবাজি, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির নানা অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এরপরই ভেঙে দেওয়া হয় মণ্ডপের যাবতীয় নির্মাণকাজ। বিশ বাঁও জলে চলে যায় টালা প্রত্যয়ের পুজোর ভবিষ্যৎ। তবে রথের মাঝেই উৎসবের হাওয়া লাগল টালা প্রত্যয়ের গায়ে।
মঙ্গলবার ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে তিনি জানান, “এতকাল পুজোর নামে একনায়কতন্ত্র চালানো হয়েছে। এবার টালা প্রত্যয়ে ফিরবে পাড়ার পুজোর ফ্লেভার। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সকলে মিলে পুজোর আয়োজন করব।” টালা প্রত্যয়ের দুর্গাপুজোপুর্বতন সদস্যদের ছাঁটাই করে নতুন সদস্যদের নিয়ে তৈরি হয়েছে কমিটি। যার সম্পাদক বিশ্বেশ্বর পাণ্ডে। মঙ্গলবার ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে তিনি জানান, “এতকাল পুজোর নামে একনায়কতন্ত্র চালানো হয়েছে। এবার টালা প্রত্যয়ে ফিরবে পাড়ার পুজোর ফ্লেভার। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সকলে মিলে পুজোর আয়োজন করব।” তবে কি এবার মাঠে বিশালাকারের পুজোর সাক্ষী থাকবেন না? কমবে বাজেটও? বিশ্বেশ্বর পাণ্ডের কথায়, মাঠ দখল করে পুজোর আয়োজনে তাঁরা বিশ্বাসী নন। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যতখানি জায়গায় পুজো করা যাবে, সেখানেই বড় করে হবে দেবীর আরাধনা। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে। অর্থাৎ, এবারও যে শহরের নামজাদা বিগ বাজেট পুজোগুলির মধ্যেই তাঁরা থাকবেন, তেমনই ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
আর শিল্পী? চলতি বছর এই একটিমাত্র পুজোর দায়িত্বে থাকলেও ক্লাবের ডামাডোলের মধ্য়ে অন্য ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ভবতোষ সুতার। ফলে তাঁকে যে আর এবছর টালা প্রত্যয়ে দেখা যাবে না, তা বলে দেওয়া যেতেই পারে। ক্লাবের নবগঠিত কমিটির তরফে এ নিয়ে এখনও মুখ খোলা না হলেও শোনা যাচ্ছে, এবছর কামব্যাক করতে চলেছেন সুশান্ত পালই। আগামী সপ্তাহেই পুজো নিয়ে একাধিক ঘোষণা করবে ক্লাব। তখনই গোটা ছবিটা পরিষ্কার হবে। এবার দুর্নীতি মুক্ত টালা প্রত্যয়ের পুজোয় আগের মতোই জাঁকজমক, চাকচিক্য থাকে কিনা, সেটাই এখন লাখ টাকার সওয়াল।
২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছিলেন নতুন করে এফআইআর করতে পারবেন শহিদের পরিবাররা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার ঘোষণা করল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ১৩ শহিদের অন্যতম বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মনীশ গুপ্তের নামে এফআইর করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, কালীঘাট তৃণমূল বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন তৃণমূল— কোনও পক্ষেরই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তাঁরা যোগ দেবেন না। সেই সিদ্ধান্তেই অনড় থেকে এ দিন কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যায়নি পরিবার। নিজেদের উদ্যোগে শহিদ স্মরণ ও তর্পণ করার পরই আইনি লড়াইয়ের নতুন বার্তা দেয় তাঁরা। সকালে বিশ্বনাথ রায়ের বাড়ির সামনে শহিদ বেদিতে মাল্যদান করতে যান তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁদের মাল্যদান করতে বাধা দেন রাজীব রায়।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রাক্তন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। সোমবার বরানগরের নরসিংহ প্রসাদ রোডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বনাথ রায়ের ছেলে রাজীব রায় বলেন, “কেউ করুক বা না করুক, আমার পরিবার এফআইআর করবে। আমি এবং আমার মা অভিযোগ দায়ের করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মনীশ গুপ্তের নাম থাকবে। পুরো তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় না নিয়ে আসা পর্যন্ত আমরা শান্ত থাকব না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সাল থেকেই তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি বয়কট করে আসছে বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। তাঁদের দাবি, শহিদ দিবস রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, অথচ শহিদ পরিবারের বিচার আজও মেলেনি। সেই অবস্থান থেকেই এ বছর রাজনৈতিক মঞ্চ এড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা করেছে পরিবার।
এ দিকে, কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা আর এক শহিদ কেশব বৈরাগীর পরিবারও এ দিন কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে যায়নি। পরিবারের দাবি, তাঁরা এই বিতর্কে আর জড়াতে চান না। সেই কারণেই ২১ জুলাইয়ের কোনও কর্মসূচিতেও যোগ দেননি।
বামশিবিরের পরিচিত মুখ ছিলেন। একাধিক আন্দোলনে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছিল প্রতীক উর রহমানকে। মাস কয়েক আগে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের শরিক হতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু ভোটের পর তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না প্রতীক উরকেও। স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন, এবার কোন পথে হাঁটবেন তিনি? শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে নাকি রাজনৈতিক সন্ন্য়াসের চিন্তাভাবনাই করছেন তিনি। ফিরবেন নিজের পুরনো পেশায়।
২০০৮ সাল নাগাদ সরাসরি বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন প্রতীক উর। অর্থাৎ দলের সুসময় তিনি দেখেছেন, তা বলা যায় না। দুঃসময়েই বামেদের ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। দলের তরফেও সাধ্য মতো তাঁকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় সিপিএমের তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় সব আন্দোলনেই প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ঝাঁজালো আক্রমণ করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। একাধিক ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেছে লালপার্টি। জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের প্রতি একরাশ উষ্মা প্রকাশ করে সিপিএম ছাড়েন প্রতীক-উর। তারপরই যোগ দেন তৃণমূলে। বলেছিলেন, উন্নয়নের শরিক হতে চান। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ঋতব্রতর যোগের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একটা সময় দু’জন একসঙ্গে বাম রাজনীতি করতেন। ফলে ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরবর্তীতে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলে। জানা যায়, প্রতীক উরের দলবদলের নেপথ্যে ছিলে সেই ‘ঋতদা’ই।
কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, আর রাজনীতি নয়, এবার আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। অর্থাৎ রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানতে চলেছেন প্রতীক উর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল নাগাদ প্রতীক উর আইনে স্নাতক হন। পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন তিনি।পালাবদলের পর বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ একেবারে বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের রাশ নেই বললে অত্যুক্তি হবে না। অন্যদিকে প্রবল চাপে অভিষেকও। একে মামলার পাহাড়, তার উপর একের পর এক বাড়ি, কার্যালয় ভাঙার নোটিস পড়েছে। আমতলার যে কার্যালয়ে অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন প্রতীক উর, সেখানে বুলডোজার চলেছে। সেখানেও দেখা যায়নি প্রতীক উর। এদিকে আবার প্রতীক-উরের ‘ঋতদা’র দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। একদিকে মমতা-অভিষেক, অন্যদিকে ঋতদা, এবার কোন দিকে যাবেন প্রতীক উর, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল সকলের মনে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, আর রাজনীতি নয়, এবার আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। অর্থাৎ রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানতে চলেছেন প্রতীক উর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল নাগাদ প্রতীক উর আইনে স্নাতক হন। পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া বার কাউন্সিলের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন তিনি।
রাঘব জুয়ালের সঙ্গে শেহনাজ গিলের ‘মাখোমাখো সমীকরণ’ নিয়ে মায়ানগরীর সেলেবপাড়ায় ফিসফাসের অন্ত নেই। আরিয়ান খানের ‘ব্যাডস অফ বলিউড’ খ্যাত অভিনেতার মধ্যেই কি নতুন বসন্তের খোঁজ পেলেন ‘পাঞ্জাবি কুড়ি’? এহেন গুঞ্জনে যখন তোলপাড় সিনেদুনিয়া, তখন শেষমেশ প্রেমের জল্পনায় মুখ খুললেন রাঘব জুয়াল।
শেহনাজ গিলঠিক কী ঘটেছে? দিন কয়েক আগে মুম্বইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে বসেছিল ‘ব্যাডস অফ বলিউড’ খ্যাত অভিনেতা রাঘবের জন্মদিনের আসর। যে পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন শাহরুখপুত্র নিজেও। পার্টিশেষে হোটেল থেকে বেরনোর সময়ে যে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়, তাতেই শেহনাজের প্রেমের গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে। ভাইরাল কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, জন্মদিনের পার্টি শেষে বেরনোর সময়ে শেহনাজ গিলকে ভিড়ের মধ্যে সন্তপর্ণে আগলে রেখেছেন খোদ ‘বার্থডে বয়’ রাঘব জুয়াল। সামনেই ছিলেন আরিয়ান খান। এরপর ছবিশিকারিদের হুড়োহুড়িতে গাড়ি পর্যন্ত যেতে বেগ পেতে হয় তাঁদের। তখনও কিন্তু রাঘব এবং শেহনাজ একে-অপরকে শক্ত করে আঁকড়ে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তড়িঘড়ি গাড়িতে ওঠার সময়ে অভিনেত্রীকে প্রায় কোলেই বসিয়ে নেন রাঘব জুয়াল। আর পাপারাজ্জিদের সুবাদে এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্তই এখন ‘টক অফ দ্য টাউন’। এদিকে প্রেম গুঞ্জন চাউড় হতেই বেধড়ক কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে শেহনাজ গিলকে। অতীত প্রসঙ্গ টেনে নেটভুবনের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধার্থ শুক্লাকে ভুলে গেলেন?’ এমতাবস্থায় বান্ধবী শেহনাজের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অভিনেতা। আর শুধু নিন্দুকদের জবাবই ছুড়লেন না, রাঘব যা বললেন, তাতে শেহনাজের সঙ্গে তাঁর প্রেমচর্যার পালে আরও হাওয়া লাগল বইকী!
“একদল পুরুষ যদি তাঁর ওপর চড়াও হত, সেক্ষেত্রেও আমি প্রতিবাদ করতাম। কারণ এমন শিক্ষাই আমি পেয়েছি।…”সত্যিই কি শেহনাজ গিলের সঙ্গে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’? এপ্রসঙ্গে রাঘব জুয়ালের মন্তব্য, “আমার বাবা-মা আমাকে প্রকৃত অর্থে পুরুষ তৈরি করেছেন। আমার সঙ্গে অন্য কোনও মহিলাও যদি সেদিন থাকতেন, আর একদল পুরুষ যদি তাঁর ওপর চড়াও হত, সেক্ষেত্রেও আমি প্রতিবাদ করতাম। কারণ এমন শিক্ষাই আমি পেয়েছি। এভাবেই আমার বেড়ে ওঠা। শুধু দাঁড়িয়ে দেখব- এমন মানুষ আমি হতে পারব না। বন্ধু হোক বা পরিবার, যে কোনও মহিলাকেই আমি আমৃত্যু রক্ষা করব। এটাই আমি। নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র ভাবি না।”
উত্তরপ্রদেশে একটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন মহিলা কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্য়ে দু’জন নাবালিকা। সাহারানপুরের এএলএম প্ল্যান্টটি প্রাক্তন সাংসদ হাজি ফজলুর রহমানের। আচমকাই বাতাসে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়াতে শুরু করে। তাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কারখানার ভিতরে থাকা কর্মীরা। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে অসুস্থদের।
[প্রিয় পাঠক, খবরটি সদ্য আমাদের কাছে এসেছে। যেটুকু তথ্য এর মধ্যে পাওয়া গিয়েছে, সেটুকুই আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হল। গুরুত্বপূর্ণ এই খবরটি খুঁটিনাটি-সহ কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সবিস্তারে জানাব। অনুগ্রহ করে একটু পরে আর-একবার এই পেজটি রিফ্রেশ করুন, যাতে পূর্ণাঙ্গ খবর ও খবরটির অন্যান্য খুঁটিনাটি আপনারা জেনে নিতে পারেন। এই সময়টুকু আমরা আপনাদের কাছে চেয়ে নিলাম। পাশাপাশি উল্লেখ থাক, সম্প্রতি নেটমাধ্যমে নানারকম ভুয়ো খবরের ছড়াছড়ি। সে বিষয়ে আমরা যথাসম্ভব সতর্ক থেকেই খবর পরিবেশন করি। যে-কোনো খবরের সত্যাসত্য যাচাই করে তবেই আপনাদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, ঠিক ও তথ্যনিষ্ঠ খবর তুলে ধরার ক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা আন্তরিক ভাবে কাম্য।]
হাসপাতাল থেকে ছুটি মিলেছে, অস্ত্রোপচারও সফল। অনেকের ধারণা, এখানেই চিকিৎসার ইতি। কিন্তু বাস্তবটা অনেকটাই ভিন্ন। অপারেশনের পর বাড়ি ফেরার পরই শুরু হয় শরীর ও মনের আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। ব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার দীর্ঘ পথ পেরিয়েই আসে প্রকৃত সুস্থতা।
সম্প্রতি নিজের ব্লগে হাসপাতাল, অস্ত্রোপচার এবং আইসিইউতে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অমিতাভ বচ্চন। তবে কী ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। তবে তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে অস্ত্রোপচারের পরের সেই বাস্তবতা, যা অসংখ্য রোগী নীরবে অনুভব করেন।
চিকিৎসকরাও তাঁর সঙ্গে একমত। তাঁদের মতে, অপারেশনের পর শরীর যেমন সময় নিয়ে সেরে ওঠে, তেমনই মানসিক সুস্থতাও এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময় একজন রোগীর কেমন কাটে?
ভালো থাকুন। ছবি: সংগৃহীতঅস্ত্রোপচারের পর কেন এত ক্লান্ত লাগে?
অস্ত্রোপচারের পর শরীরের সমস্ত শক্তি ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলার কাজে ব্যয় হয়। প্রদাহ কমানো, নতুন কোষ তৈরি এবং শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়ায় রোগীরা প্রায়ই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন। অনেকের খিদে কমে যায়, রাতে ভালো ঘুম হয় না, আবার কেউ কেউ হাঁটাচলাতেও অস্বস্তি বা দুর্বলতা অনুভব করেন। বয়স, অস্ত্রোপচারের ধরন এবং আগে থেকে থাকা অসুস্থতার উপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সুস্থতার সময়, যা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
শরীরের ক্ষতের পাশাপাশি তৈরি হয় মনের ক্ষতও
দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকা বা আইসিইউ-তে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা অনেকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। সুস্থ হওয়ার আনন্দের পাশাপাশি থেকে যায় নানা উদ্বেগ। আবার যদি কোনও জটিলতা হয়, সেই ভয়ও অনেককে তাড়া করে। কেউ কেউ নিজেকে আগের মতো স্বাভাবিক মনে করতে পারেন না, অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অনুভূতিও মানসিকভাবে সমস্যা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পোস্ট-ইনটেনসিভ কেয়ার সিনড্রোম (পিআইসিএস) দেখা দিতে পারে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
বাড়ি ফেরার পরও দরকার বাড়তি যত্ন। ছবি: সংগৃহীতসুস্থ হয়ে ওঠার পথ কী?
চিকিৎসকদের মতে, অপারেশনের পর তাড়াহুড়ো করে আগের জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে ফলো-আপে যাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যতটা অনুমতি দেয়, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মানসিক সমর্থনও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
তবে যদি টানা জ্বর, ক্ষতস্থানে লালচে ভাব বা ফোলা বেড়ে যাওয়া, পুঁজ বের হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত বা অসহনীয় ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মন ভালো থাকাও চিকিৎসারই অংশ
চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর শুধু শরীরের ক্ষত শুকিয়ে গেলেই সুস্থতা সম্পূর্ণ হয় না। মানসিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠাও সমান প্রয়োজন। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, গান শোনা বা ধীরে ধীরে পছন্দের কাজে ফিরে যাওয়া রোগীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। আর যদি দীর্ঘদিন উদ্বেগ বা অবসাদ থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।
অমিতাভ বচ্চনের অভিজ্ঞতা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, অস্ত্রোপচার একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং সুস্থ হয়ে ওঠার নতুন অধ্যায়ের শুরু। সেই পথ সহজ করতে প্রয়োজন সময়, ধৈর্য, সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবার-পরিজনের আন্তরিক পাশে থাকা।
স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন বধূ। প্রায়ই মধ্যমগ্রামের হোটেলে রাত কাটাতেন যুগল। সেখানেই মিলল মহিলার ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার হোটেলেই প্রেমিকের সঙ্গে বচসা হয় মহিলার। তারপর থেকেই তিনি বেপাত্তা। সোমবার রাতে হোটেলেই মিলল ঝুলন্ত দেহ। মৃতার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা রিনা রাম। বয়স ৪০ বছর। মধ্যমগ্রামের পাটুলি-শিবতলা এলাকার বাসিন্দা তিনি। বিবাহিত হলেও দীর্ঘদিন স্বামীর থেকে আলাদা থাকেন তিনি। জানা যাচ্ছে, এলাকার বাসিন্দা গৌরবের সঙ্গে প্রায় দু’বছর ধরে তাঁর সম্পর্ক। গত মার্চ মাস থেকে মাঝেমধ্যেই মধ্যমগ্রামে যশোর রোডের ধারে হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন তাঁরা। দিন তিনেক আগে ফের দু’জনে ওই হোটেলে ওঠেন। রবিবার তাঁদের মধ্যে বচসা হয়। এরপর গৌরব হোটেল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। তারপর থেকেই রিনার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। সোমবার রাতে তাঁরা মধ্যমগ্রাম থানায় খবর দেন। পুলিশ তাঁদের নিয়ে হোটেলে পৌঁছয়।
ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় বহুবার ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া মেলেনি। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় রিনাকে উদ্ধার করা হয়। মধ্যমগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই রিনা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গৌরবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় অভিযুক্ত হোটেলে ছিলেন না। মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, রবিবারের বচসার সঙ্গে তার কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
বাঁকুড়া: বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (Bankura Medical College) জরুরি বিভাগের সামনে পরপর অ্যাম্বুল্যান্স এসে থামছে। নির্মাণকাজে উচ্চতা থেকে পড়ে গুরুতর জখম হয়ে এসেছেন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আবদুল কাসেম নামে এক শ্রমিক। আবার সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও এক আহত। তিনি পেশায় শিক্ষিকা। ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়ার দিকে আসার পথে পথদুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাঁদের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতেই শুরু হয় চিকিৎসকদের ব্যস্ততা। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেই সামনে আসে জেলার এই সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অন্যতম বড় পরিকাঠামোগত সমস্যা, এখানে এখনও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা কেয়ার সেন্টার নেই।
অনুমোদিত ১,৪৪১ শয্যার বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শুধু জেলার নয়, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের একাংশের মানুষেরও ভরসার কেন্দ্র। হাসপাতালে দুজন নিউরোসার্জন থাকলেও মাথায় গুরুতর আঘাত বা পলিট্রমা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডেডিকেটেড ট্রমা অপারেশন থিয়েটার, নিউরো-আইসিইউ, পূর্ণাঙ্গ ট্রমা টিম এবং ট্রমা পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। রোগীর পরিজনদের একাংশের অভিযোগ, গুরুতর দুর্ঘটনার রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সময় একাধিক পরিষেবা পেতে বিলম্ব হয়। এই অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ সমন্বিত ট্রমা চিকিৎসা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকার কারণে চিকিৎসা শুরু করতেই পারেন না। জানা যাচ্ছে, জেলার প্রধান রেফারাল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার দাবি উঠছে।
পরিকাঠামোর সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে হাসপাতালের পুরনো মূল ভবনকে ঘিরে। ভবনটি জীর্ণ হয়ে পড়ায় পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড ইতিমধ্যেই সুপার স্পেশালিটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ডিপিআর জমা পড়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে আধুনিক এমার্জেন্সি ব্লকও রয়েছে এবং আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ দ্রুত অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা এবং বহুবিভাগীয় সমন্বিত চিকিৎসা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ডেডিকেটেড ট্রমা কেয়ার ইউনিট, নিউরো-আইসিইউ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পর্যাপ্ত লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত ট্রমা টিম প্রয়োজন।
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, “পুরনো ভবনের নিরাপত্তার কারণে ওয়ার্ড স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন হাসপাতাল ভবন ও আধুনিক এমার্জেন্সির পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রমা-সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।” (চলবে)
বৃদ্ধার শবদেহ শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করার জন্য ঢোকানো হচ্ছিল। প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোয় থমথমে পরিবেশ। পরিজনদের কান্নার পাশাপাশি হরিবোল ধ্বনিও উঠছে। সেসময় আচমকাই ওই ট্রলির উপর ঝাঁপিয়ে মৃতদেহের সঙ্গে জলন্ত চুল্লির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে এক যুবক! চুল্লির গনগনে আঁচে সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে গেল যুবকের মুখ ও শরীরের বেশ কিছু অংশ। উপস্থিত লোকজন কোনওক্রমে ওই যুবককে চুল্লির ভিতর থেকে টেনে বার করেন! হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ স্টেশনে। ওই যুবক সম্পর্কে মৃতার নাতি বলে জানা গিয়েছে। ঠাকুমার মৃত্যুশোক মানতে না পেরেই কি এই ভয়াবহ পদক্ষেপ?
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে। স্থানীয় ও শ্মশান সূত্রে জানা গিয়েছে, গেদে সীমান্ত এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধার দেহ দাহ করার জন্য নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মৃতার পরিজনরাও শ্মশানে শেষযাত্রায় গিয়েছিলেন। শ্মশানে কাগজকলমে কাজ শেষ হলেই মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা শুরু হয়। চুল্লির সামনে মৃতদেহ রাখা ছিল। শেষবার দেখার জন্য পরিবার-পরিজনের লোকজন দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। চুল্লির দরজা খুলতেই ঘটে গেল মারাত্মক ঘটনা।
দেহ চুল্লির ভিতরে ঢোকানোর সময় ঠাকুমার মৃতদেহের উপর ঝাঁপ দিয়েছিলেন সম্পর্কে নাতি বছর ৩০ বয়সের যুবক ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। মৃতদেহের ট্রলি ততক্ষণে বেশ কিছুটা চুল্লির মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। ওই গনগনে আঁচে ঝলসে গেল যুবকের শরীরের বেশ কিছুটা অংশ। ঘটনা দেখে উপস্থিত সকলেই হতবাক। কোনওরকমে ওই যুবককে উদ্ধার করেন লোকজন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবকের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন ঝলসে গিয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। কিন্তু কী কারণে এই ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় যুবকটি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। যদিও পরিবারের লোকজন সেই কথা মানতে চায়নি। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাদল অধিবেশনের পয়লা দিনেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি। নিট কেলেঙ্কারি-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলন রুখতে যন্তর মন্তর চত্বরে ৫০০০ পুলিশ ও আধাসেনা নামায় কেন্দ্র। এরপরেও ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগনোর চেষ্টা করলে আন্দোলকারীদের সঙ্গে তুমুল বিরোধ বাঁধে পুলিশের। বিক্ষুব্ধ ‘আরশোলা’দের রুখতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস, চালানো হয় জলকামানও। রাজপথে যখন এহেন পরিস্থিতি, তখন সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সোমবার উত্তপ্ত হয় সংসদের বাদল অধিবেশনও। এদিন সংসদের ভিতর ঠিক কেমন পরিবেশ ছিল? সেকথাই জানালেন কঙ্গনা রানাউত।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন দেশজুড়ে কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়, পুলিশের নীতিবোধ নিয়ে প্রতিবাদে সরব অনুরাগ কাশ্যপ, অরিজিৎ সিং-সহ তাবড় তারকারা, তখন কঙ্গনার মন্তব্য, “দিল্লি পুলিশ যেভাবে আমজনতার সামনে ঢাল হয়ে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে…”সাংসদ তথা অভিনেত্রীর মন্তব্য, “আমরা সব সাংসদরা তখন সংসদ কক্ষের ভিতরে। সকলেই ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম এই ভেবে যে, উন্মত্ত জনতা হয়তো আমাদের উপর হামলা চালাবে।” বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই এহেন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রাজধানীতে। পড়ুয়াদের ‘বিক্ষোভ দমনে’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন দেশজুড়ে কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়, পুলিশের নীতিবোধ নিয়ে প্রতিবাদে সরব অনুরাগ কাশ্যপ, অরিজিৎ সিং-সহ তাবড় তারকারা, তখন সংবাদ সংস্থা এএনআই-য়ের মুখোমুখি হয়ে কঙ্গনার মন্তব্য, “দিল্লি পুলিশ যেভাবে আমজনতার সামনে ঢাল হয়ে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে, তার জন্যে ওরা প্রশংসার দাবিদার।” পাশাপাশি মঙ্গলবার এনডিএর সংসদীয় বৈঠকে নিট কেলেঙ্কারির নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সরব হয়েছেন, সেপ্রসঙ্গ টানেন বিজেপির তারকা সাংসদ। এদিন নরেন্দ্র মোদি জানান, “যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাটা সরকারের দায়িত্ব।” প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়েই কঙ্গনা রানাউতের সংযোজন, “এবিষয়ে আমাদের দায়িত্ব কী এবং কীভাবে আমরা এই সমস্যার মোকাবিলা করব, সে সম্পর্কেই মোদিজি কথা বলেছেন।”
কঙ্গনা রানাউত, ছবি- এক্স হ্যান্ডেলসোমবারও ককরোচদের ‘সংসদ অভিযান’ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। তিনি বলেন, “আমাদের সংসদীয় অধিবেশনগুলো এই জন্যই বিশেষভাবে আয়োজিত, যাতে আমরা সমস্ত বিষয়ে বিশদে আলোচনা করতে পারি। কিন্তু তারা যদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেখানে এইভাবে হট্টগোল করে, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে, সেটা মোটেই ঠিক নয়। এই সরকার জনগণের নির্বাচিত এবং সরকার কীভাবে চলবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল সরকারেরই রয়েছে। আপনাদের যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে আপনারা নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। কাকে বরখাস্ত করা হবে আর কাকে রাখা হবে? সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনারা এভাবে সরকারকে চাপ দিতে পারেন না। এই ধরনের চাপপ্রয়োগ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এখানেই অবশ্য থামেননি মাণ্ডির বিজেপি সাসদ। কঙ্গনার সংযোজন, “ধীরে ধীরে সকলেই ভারতীয় জনতা পার্টি এবং সনাতন সংস্কৃতিতে আশ্রয় খুঁজবে, কারণ এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।” এবার হাজারো কটাক্ষ, সমালোচনার মাঝে দিল্লি পুলিশের প্রশংসা করে সমালোচিত কঙ্গনা রানাউত।
এ কী হল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের (Vinicius Jr) ! বিশ্বকাপ শেষেই নিজের চেহারা বদলে ফেললেন ব্রাজিলের তরুণ উইঙ্গার। অনেকে তো চিনতেই পারছেন না। জানা গিয়েছে, ইউরোপে ছুটি কাটিয়ে ব্রাজিলে ফিরেই একটি চিন হারমোনাইজেশন করিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বিশ্বকাপ খুব একটা সুখের হয়নি ভিনির। নিজে ভালো ফর্মে থাকলেও ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। তারপরই কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে ইউরোপে উড়ে যান। দেশে ফিরে গোইয়ানিয়ার একটি ক্লিনিকে এই বিশেষ সার্জারি করিয়েছেন ভিনি। মূলত চিবুক ও মুখের আকৃতি বদলে ফেলা হয় এই প্রক্রিয়ায়।
কী এই চিন হরমোনাইজেশন? সেলিব্রিটিদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় এই সার্জারি। বিজ্ঞানসম্মতভাবে ওই ব্যক্তির মুখাবয়বের মাপ নেওয়া হয়। মুখের লম্বা তিনভাগ ও আড়াআড়ি দু’ভাগ মাপা হয়। সেখানে ঠিক করা হয়, চিবুক কতটা বাড়ানো বা কমানো উচিত। সেই অনুযায়ী, চিবুক ও মুখের আকৃতি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সুগঠিত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। মূলত মুখাবয়বকে আরও তীক্ষ্ম ও আকর্ষণীয় করতে এই পদ্ধতি নেওয়া হয়।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভিনির সার্জারির জন্য এক চিকিৎসককে মায়ামি থেকে গোইয়ানিয়ায় উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষের জন্য ক্লিনিক বন্ধ রাখা হয়। কর্মীদের ছবি, ভিডিও বা সোশাল মিডিয়ায় কোনো তথ্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর ছবি লুকিয়ে থাকেনি। নেটদুনিয়ায় ভিনির ছবি আসতেই অবাক ফুটবলভক্তরা।
Agora em vídeo, o novo rosto do Vini Jr.
Completamente diferente.
Surreal. pic.twitter.com/4lfGuFXBJd
— MatheusFla (@_matheusfla) July 21, 2026
ফের খড়গপুর আইআইটিকে গর্বিত করলেন আরও এক প্রাক্তনী। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও শোনা গেল খড়গপুর আইআইটির ওই প্রাক্তনীর ভূয়ষী প্রশংসা। আর সেই প্রশংসার খবরে খড়গপুর আইআইটিতে খুশির হাওয়া। হায়দরাবাদ ভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-র তৈরি করা রকেট ‘বিক্রম-১’-র সফল উৎক্ষেপণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর হলেন খড়গপুর আইআইটির প্রাক্তনী পবনকুমার চন্দনা।
তিনি বর্তমানে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এই পবনকুমার চন্দনা ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত খড়গপুর আইআইটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ডুয়েল ডিগ্রি (বিটেক ও এমটেক) নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। খড়গপুর আইআইটি থেকে পাস করার পর তিনি ইসরো-তে বিজ্ঞানী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৮ সালে অন্যদের সঙ্গে ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’ প্রতিষ্ঠা করেন। আর এই সংস্থার তৈরি রকেট বিক্রম-১-র সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইআইটির এই প্রাক্তনীকে ব্যক্তিগতভাবে ফোনালাপের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আর প্রধানমন্ত্রীর সেই অভিনন্দন পেয়ে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পবন। এদিকে, প্রাক্তনীর এই সাফল্যে রীতিমতো আপ্লুত খড়গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, “এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। খড়গপুর আইআইটি আজ আরও একবার গর্বিত হল।” খড়গপুর আইআইটির পড়ুয়ারাও এই সাফল্যে গর্বিত।
মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট। ‘মিশন আগমন’-এর অন্তর্গত ওই রকেটের উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ সফল হতেই তৈরি হল ইতিহাস। লো আর্থ অরবিটে ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম বিক্রম-১। উল্লেখ্য, স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট বিক্রম-১। অত্যাধুনিক লিকুইড ইঞ্জিন ও কঠিন-জ্বালানি বুস্টারের মিশেলে তৈরি এই রকেট ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। বলে রাখা ভালো, এই মিশনে মহাকাশে পাঠানো হবে এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্মও। সেই সঙ্গেই এখানে থাকবে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেট। যে রকেটে ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার কিংবদন্তি মুখ বিক্রম সারাভাই, এপিজে আবদুল কালাম, সিভি রমণ, বিক্রম সারাভাইয়ের মুখ খোদিত রয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের সমর্থনে দিল্লিতে ধরনা করতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আটক হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই লোকভবন (রাজভবন) ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। আজ রাত ৮টায় এই কর্মসূচি করবে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের তরফে কর্মীদের জানানো হয়, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের দিল্লিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও আজ রাতে কলকাতার রাজভবনের সামনে মোমবাতি মিছিল করে প্রতিবাদ করব। নেতৃত্ব দেবেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সব কংগ্রেস কর্মী রাত ৮ টায় রাজভবনের সামনে উপস্থিত হোন।”
সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ছাত্র যুবদের মিছিল ঘিরে দিল্লিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনা কর্মসূচি করে কংগ্রেস। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী- সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-কর্মী। এছাড়াও সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবকেও আটক করা হয়। রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবার লোকভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেন শুভঙ্কর সরকার।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। এরপরই বিক্ষোভকারীদের হটাতে তৎপর হয় দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। রাহুল, অখিলেশ, প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্যদের তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে।
প্রায় বছর ২০ পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। এই ফেরা, নিশ্চিতভাবেই তসলিমার জীবনে, বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
১৯৯২। বাবরি মসজিদ। ধ্বংস। জন্ম নিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা– ভারতেই তা সীমাবদ্ধ রইল না। ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশেও। ধর্মীয় মৌলবাদের শিকার হল বাংলাদেশের এমন হিন্দুরাও, যারা ধর্ম নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি এর আগে পর্যন্ত। এমন এক হিন্দু পরিবারের গল্প, সাম্প্রদায়িক হিংসার জেরে জেরবার– তার কথা সরাসরি উঠে আসছে যে বইতে, সে বইয়ের প্রকাশসাল ১৯৯৩। লিখছেন মাত্র বছর তিরিশের এক নারী। যিনি ধর্মীয় পরিচয়ে বাংলাদেশি মুসলিম, লিঙ্গগত পরিচয়ে তথাকথিত ‘দুর্বল’– এক নারী।
তসলিমা নাসরিন। ১৯৮৬ সালে ‘শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা’– এই কবিতার বই দিয়েই তাঁর আত্মপ্রকাশ। একের পর লিখে গিয়েছেন ‘নির্বাসিতে বাহিরে অন্তরে’, ‘আমার কিছু যায় আসে না’, ‘অতল অন্তরীণ’, ‘বালিকার গোল্লাছুট’-এর মতো কাব্যগ্রন্থ।
তিনি যখন ‘আমার মেয়েবেলা’য় তাঁর শৈশবের নানা ঘটনা, গল্প বলছেন, তুলে ধরছেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ততদিনে নারীর এমন রাখঢাকহীন আত্মকথন নেওয়ার মতো পরিণত মানসিকতা কিছুটা হলেও কি হয়েছিল বাঙালি পাঠকের? যদিও বহু আগেই রাসসুন্দরী দেবী লিখেছেন ‘আমার কথা’, বাংলায় প্রথম আত্মজীবনী। এক নারীর। তবুও কি তসলিমার কালো অক্ষর বাঙালি পাঠককে বিরক্ত করেনি?
তসলিমার লেখার পরতে পরতে যেন খোলস ছাড়ে শৈশবের সারল্য। এক পোঁচ, দু’পোঁচ করে তাতে মেশে সমাজের ঘুণধরা ছবি, মৌলবাদ, লিঙ্গবৈষম্য, যৌনতার কথা। প্রত্যেক বইয়ের প্রকাশের আগেই তো তিনি জানতেন, ধর্মীয় গোঁড়াদের সামনে একটু একটু করে বেআব্রু হচ্ছেন, ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে ওঁর স্বাধীনভাবে বাঁচার পরিসর।
কিন্তু তবু লেখা থামিয়ে দেননি তসলিমা। ‘আমার মেয়েবেলা’-র পর যা-কিছুই লিখেছেন, ‘নষ্ট মেয়ের নষ্ট গদ্য’, ‘নির্বাচিত কলাম’, ‘নারীর কোনও দেশ নেই’, অথবা ‘নির্বাসিত নারীর কবিতা’, ‘খালি খালি লাগে’, ‘আমার কিছু যায় আসে না’-র মতো কবিতার বই— সবই কোনও না কোনওভাবে হয়ে উঠেছে তাঁর আত্মজীবনীর অংশ। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা এক মুসলিম নারীর আত্মজীবনী। ওঁর মেয়েবেলা সারাক্ষণ রয়েছে ওঁর কলমে। মেয়েবেলার স্মৃতিই মানুষ তসলিমাকে তৈরি করছে। তাঁর বেঁচে থাকা, তাঁর যৌনতা, তাঁর ভুলভ্রান্তি— অন্যকে সমালোচনার পাশাপাশি তসলিমা বিদ্ধ করেছেন নিজেকেও। আত্মসমালোচনায় ভয় পাননি।
লিখেছেন ‘শোধ’, ‘ফরাসি প্রেমিক’-এর মতো উপন্যাস। ‘আমার মেয়েবেলা’-র পর জুড়েছে আত্মজীবনীর পরবর্তী পর্যায়— ‘উতল হাওয়া’, ‘দ্বিখণ্ডিত’, ‘সেই সব অন্ধকার’, ‘আমি ভালো নেই, তুমি ভালো থেকো প্রিয় দেশ’। ‘লজ্জা’ নিয়ে বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন, এক সময় নির্বাসিত হলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকেও। কিন্তু এর আগে, অনেকখানি আগেই যখন ওঁর বইয়ের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা হচ্ছে, তখনই কি তসলিমা লেখকের ভূমি থেকে প্রতারিত হননি? বারেবারেই যে ওঁর লেখার পরিসরকে খর্ব করা হয়েছে।
তবু লিখে গিয়েছেন তসলিমা। কলমের খাপ তিনি হারাননি, স্বেচ্ছায় ফেলে দিয়েছেন। খাপখোলা কলমই তাঁর কাছে বেঁচে থাকার অস্ত্র। নির্বাসিত ধূসর সময়কাল থেকে কলকাতায় এই ফেরা, শুভ হোক তসলিমার। তিনি লেখায় আরও গুঢ়ভাবে ফিরুন, পাঠক নিশ্চয়ই তাঁর কলমের দিকে আবারও তাকিয়ে থাকবে।
উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, অসমের পর এবার বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশেও পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code)। প্রবল বিরোধিতার মধ্যেই মঙ্গলবার ধ্বনি ভোটে পাশ হল বিলটি। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল রাজ্যের সংখ্যালঘুদের অধিকারকে খুন্ন করছে। বিলটির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কংগ্রেস।
রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে গত ১৯ জুলাই রবিবার বিলের খসড়া অনুমোদন করে মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়ে দেন বিধানসভায় বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই পেশ করা হবে বিলটি। সেইমতো এদিন বিধানসভায় পেশ করা হয় বিলটি। বিল পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় এক সোনালী ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। তবে কংগ্রেস তাদের তোষণের রাজনীতির জন্য এই বিলের বিরোধিতা করছে। এবং এটিকে আদিবাসী-বিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে।’ বিলটি পেশ হতেই কংগ্রেসের তরফে এর ব্যপক বিরোধিতা করা হয়। এবং এটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর আবেদন জানায়। যদিও কংগ্রেসের আপত্তি ধোপে টেকেনি। সংখ্যা বলে ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে যায় বিলটি। যার অর্থ এবার রাজ্যপালের অনুমোদনে আইনে পরিণত হবে বিলটি।
বিল পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় এক সোনালী ইতিহাস রচিত হতে চলেছে।’পাশ হওয়া এই বিলে ‘তিন তালাক’ ও ‘বহুবিবাহ’ নিষিদ্ধকরণ তো বটেই, সব ধর্মের মানুষের অভিন্ন বিবাহ এবং বিচ্ছেদ আইন গ্রাহ্য হবে। পাশাপাশি ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের জন্যও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এক মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। বিবাহবহির্ভূতভাবে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও সমান আইনি মর্যাদা ও উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। দত্তক, সারোগেসি, প্রজনন-সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রেও। এছাড়াও, এই বিলে বলা হয়েছে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনও নারীকে তাঁর পুরুষ সঙ্গী পরিত্যাগ করলে, তিনি আদালতের মাধ্যমে খোরপোশ দাবি করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, অসমের পর এবার চতুর্থ রাজ্য হিসেবে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করল মধ্যপ্রদেশ। কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেছিলেন, এবার রাজ্যে “রাম ও রহিম”-সহ সকলের জন্য একটিই অভিন্ন আইন কার্যকর হবে। তিনি জানান, সংবিধানের ৩৪২ ও ৩৬৬ (অনুচ্ছেদ ২৫)-এর আওতাভুক্ত তফসিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রে এই বিল প্রযোজ্য হবে না।
টানা দশদিন ধরে ইরানে বোমাবর্ষণ করছে আমেরিকা। লক্ষ্যবস্তু— সেতু, রেল স্টেশন, বিমানবন্দরের মতো দেশটির জরুরি পরিকাঠামো। পালটা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরানও। মঙ্গলবার তেহরানের ইসলামিক রেভিলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরএনএ) জানাল, নতুন করে কুয়েত এবং বাহারিনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। পাশাপাশি আরও বড় হামলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিল তারা।
সংবাদমাধ্যমকে আইআরএনএ জানিয়েছে, বাহারিনের দু’টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব়্যাডারে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব়্যাডার, স্যাটেলাইট সিগন্যালিং ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে। আইআরজিসির দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সামলানো কঠি হবে দুই দেশের মার্কিন সেনাঘাঁটির পক্ষে। পাশাপাশি ইরানির সেনার হুঁশিয়ারি, আরও বড় এবং ভয়ংকর হামলার জন্য তৈরি থাকুন।
এদিকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার লক্ষ্যে ইরানে টানা দশদিন ধরে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন সেনার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং মার্কিন মিত্র দেশ কুয়েত, জর্ডন, বাহরিনের উপরে তেহরানের হামলার জবাব দিতেই এই বোমাবর্ষণ। সেই সঙ্গেই জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানি আক্রমণ রোখাও এই হামলাগুলির লক্ষ্য।
গতকালই নিজস্ব সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘যতবার ইরান একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের সেই হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য চোকাতে হবে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’ সেই সময় থেকেই বোঝা গিয়েছিল এবার ফের ভয়াবহ হামলার পথে হাঁটবে আমেরিকা। দ্রুতই সেই আশঙ্কা সত্যি হল।
মাদ্রিদে জনসমুদ্র। দেশে ফিরেছেন সোনার ছেলেরা। বিশ্বকাপ জেতার পর হুডখোলা গাড়িতে স্পেনের (Spain) রাজধানীতে অভ্যর্থনা জানানো হল রড্রি, লামিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেসদের। শহরের প্রাণকেন্দ্রে হাজির ছিলেন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ। ভক্তদের জন্য ফুটবলাররা ডিজে-র ভূমিকা পালন করলেন। নাচে-গানে মাতিয়ে দিলেন কুকুরেয়ারা। ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে ব্যঙ্গও। অন্যদিকে দেশে ফিরে সম্বর্ধনা পেল আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। তবে ছিলেন না লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ২০১০-র পর ফের বিশ্বসেররা খেতাব উঠল স্প্যানিশদের মাথায়। সেলিব্রেশনে না মাতলে হয়। তৈরিই ছিল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ। প্রায় ২০ লক্ষ লোক হুডখোলা গাড়িতে অভ্যর্থনা জানান পাউ কুবারসি, উনাই সিমনদের। গ্রান ভা, পাসেও দেল প্রাডো এবং প্লাজা দে সিবেলেসের মতো জায়গায় তিলধারণের জায়গা ছিল না। লাল-হলুদ রঙের ধোঁয়ায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন ভক্তরা।
ছবি: পিটিআই
No cabe un alfiler en las calles de Madrid #VamosEspaña | #ReyesDelMundo pic.twitter.com/b4J2mQh5Tm
— Selección Española Masculina de Fútbol (@SEFutbol) July 20, 2026
প্রথমে রাজপ্রাসাদে যান স্পেনের ফুটবলাররা। সেখানে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, রাজকন্যা লিওনর তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। অধিনায়ক রড্রি রাজাকে বিশ্বকাপের একটি রেপ্লিকা ও ৪ নম্বর লেখা একটি জার্সি উপহার দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজের সঙ্গে দেখা করে গোটা দল। আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম মিটতেই শুরু হয় আসল সেলিব্রেশন। সিবেলেস স্কোয়ারে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিশ্বজয়ীদের জন্য। তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকেননি। নিজেরাই ডিজে-র ভূমিকা পালন করেন। যার নেতৃত্বে সাইড ব্যাক কুকুরেয়া। ইউরোজয়ের পর নিজেকে নিয়ে ‘কু কু কুকুরেয়া’ গেয়েছিলেন। এবারও একই কাণ্ড! নেচে মঞ্চে ঢোকেন লামিনে ইয়ামাল।
ছবি: পিটিআইTHE BEST MOMENTS FROM SPAIN’S WORLD CUP CELEBRATIONS!
Trust us… every single second of this video is worth watching.
@lucr3ziagalli pic.twitter.com/pL5WD337Sh
— SportyTV (@SportyTV) July 21, 2026
তবে এখানেও এল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কথা। সেটা খোঁচা দেওয়ার জন্য। স্পেন দলের ইউরেমি পিনোর ডাকনাম রোনাল্ডো। তাঁকে উদ্দেশ্য করে সঞ্চালক বলেন, “আমাদের দলেও একজন রোনাল্ডো আছেন। তবে তিনি সত্যিই বিশ্বকাপ জিতেছেন।” অন্যদিকে দেশে ফিরে সম্বর্ধনা পেলেন আর্জেন্টিনা ফুটবলাররাও। প্রবল শীতের মধ্যেও বহু মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করছিলেন। বিমানবন্দর থেকে আইকনিক ওবেলিস্ক পর্যন্ত সমর্থকরা সঙ্গে ছিলেন। বাজি ফাটিয়ে আনন্দে মাতেন তাঁরা। তবে ছিলেন না লিওনেল মেসি।
“THEY CALLED HIM CRISTIANO RONALDO LOOKALIKE BUT HE SURE HAS A WORLD CUP.”
THIS ANNOUNCER ANNOUNCED WHILE CALLING UP YEREMY PINO ON STAGE ! pic.twitter.com/61pauj7v2U
— GoalAlert HQ (@GoalAlertHQ) July 21, 2026
ছবি: পিটিআইদীর্ঘ দু’দশক বাদে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ‘বিশ্বাস দূর্গে’র পতন ঘটিয়ে আত্মবিশ্বাসী পাপিয়া অধিকারী। জয়ের পর থেকেই সিনেইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন নিজেকে ‘মোদির সেনাপতি’ বলে পরিচয় দেওয়া নেত্রী-অভিনেত্রী। বিধায়ক হওয়ার পর এবার লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়াতেও প্রত্যাবর্তন করলেন নবরূপে, দুর্গা অবতারে।
“নির্মাতারা সংস্কৃত জানা কাউকে খুঁজছিলেন, কারণ সেভাষাতেই যেহেতু সংলাপ বলতে হবে। আমি প্রথমেই নাকচ করেছিলাম। তবে ওরা কাউকে না পেয়ে…”উমা আগমনের এখনও তিন মাস বাকি। ইতিমধ্যেই চ্যানেলগুলিতে মহালয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে। কোন চ্যানেলে কোন অভিনেত্রী দুর্গারূপে ধরা দেবেন? ফি বছর এই কৌতূহল জাঁকিয়ে বসে দর্শকমনে। এমন আবহেই মঙ্গলবার ‘নবদুর্গা’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন পাপিয়া অধিকারী। আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার নন্দনে কৃষ্টি ক্রিয়েশনের নিবেদনে তৈরি ছবি ‘নবদুর্গা মাতৃরূপেন সংস্থিতা’র বিশেষ প্রদর্শনী রয়েছে। তার প্রাক্কালেই এই ঝলক যেন নেটভুবনে শোরগোল ফেলে দিল। এই সিনেমায় মহামায়া এবং নবদুর্গা অবতারে ধরা দেবেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। আর ছবির নামই যখন ‘নবদুর্গা’, তখন উমার নয়টি রূপ- শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রীর অপার মহিমাও যে ছবিতে ফুটে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই সিনেমায় দুর্গার নয়টি রূপেই পাপিয়াকে দেখা যাবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। বলাই বাহুল্য, স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের আগে সেই চমক ভাঙতে চাননি নির্মাতারা। পাপিয়া বলছেন, “নির্মাতারা সংস্কৃতি জানা কাউকে খুঁজছিলেন, কারণ সেভাষাতেই যেহেতু সংলাপ বলতে হবে। আমি প্রথমেই নাকচ করেছিলাম। তবে ওরা কাউকে না পেয়ে আবার আমাকে প্রস্তাব দেন, তখন আমি কাজটা করি। ৩২ সপ্তাহ চলেছে এই সিনেমা। সেই প্রেক্ষিতেই নন্দনে বিশেষ প্রদর্শনী রয়েছে।”
নবরূপে, দূর্গা অবতারে পাপিয়া অধিকারী।সত্যব্রতের পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও সংলাপে তৈরি ‘নবদুর্গা মাতৃরূপেন সংস্থিতা’। পাপিয়া অধিকারীর পাশাপাশি ছবিতে একঝাঁক শিল্পী অভিনয় করেছেন। তবে ঝলক উন্মোচনের পরই নেটবাসিন্দাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় বিদ্ধ অভিনেত্রী। বিধায়ককে দুর্গারূপে দেখে একাংশের পেটে খিল ধরেছে! বিশেষ করে ছবির মেকিং, ট্রিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ। কেউ বা পোস্টারে দেখানো অসুরদের আতশকাচে রেখে সমালোচনা শুরু করেছেন! ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক, সবমিলিয়ে চর্চার শিরোনামে পাপিয়ার দুর্গারূপ। ২৪ জুলাই, শুক্রবার দুপুর ২টোয় নন্দনে স্পেশাল স্ক্রিনিং রয়েছে এই ছবির।
ভালোই চলছিল সবকিছু। কর্মক্ষেত্রে প্রথম আলাপ হওয়া যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহা। সম্পর্কের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় লিভ ইন করার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনে। বাড়ির সকলে সবকিছুই জানতেন। এরমধ্যে ঘটে গেল অঘটন। নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল তৃষার মৃতদেহ। ওই একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হন তাঁর লিভ ইন সঙ্গী সৌভিক রায়ও। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে তদন্তের জট কাটবে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সম্পর্কে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির আগমন হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃষাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও খুনের পাশাপাশি আত্মহত্যার তত্ত্বও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
লিভ ইন পার্টনার সৌভিকের সঙ্গে নিউটাউনে থাকতেন তৃষা। ছবি সমাজমাধ্যম।জানা গিয়েছে, তৃষার বাড়ি ব্যারাকপুরে। তিনি সল্টলেকে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ওই একই সংস্থায় কাজ করেন সৌভিকও। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁরা দু’জনে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন । চার মাস আগে নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তৃষা ও সৌভিক। বেসরকারি সংস্থায় কাজের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েন্সরও ছিলেন তৃষা। নেটমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
রবিবার সৌভিক বাড়ির মালিককে আচমকা ফোন করে জানান, তৃষা আত্মহত্যা করেছেন। ফোন পেয়ে ওই ফ্ল্যাটে ছুটে যান বাড়ির মালিক। কিন্তু দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকবার ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি তিনি। এরপর তিনি চলে যেতেই সৌভিক আবার ফোন করেন। বাড়ির মালিক ফের ফ্ল্যাটের কাছে গেলে সৌভিক দরজা খুলে দেন। ঘরে ঢুকেই রক্ত দেখতে পান বাড়ির মালিক। এরপর তিনি দেখেন, একটি ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন তৃষা। বাড়ির মালিকই প্রথম পুলিশকে খবর দেন।
ইনফ্লুয়েন্সর ছিলেন তৃষা। সমাজমাধ্যমে বেশ অ্যাকটিভ ছিলেন তিনি। ছবি: সমাজমাধ্যম।খবর পেয়ে নিউটাউন থানার পুলিশ তৃষার মৃতদেহ উদ্ধার করে। সৌভিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর দু’হাতের কব্জি কাটা ছিল। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁকে জেরা করলে তদন্তের জট কাটবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
মৃত ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহা। ছবি: সমাজমাধ্যম।সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে তৃষাকে সন্দেহ করছিলেন সৌভিক। সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রেমিকার কথাবার্তা ভালোভাবে নেননি তিনি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে লাগাতার অশান্তি হচ্ছিল বলে অনুমান। তৃষার জীবনে অন্য কোনও ব্যক্তির প্রবেশ হওয়ায় সৌভিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই কি খুন হতে হল ২৫ বছরের ইনফ্লুয়েন্সরকে? যদিও তৃষাকে খুন করা হয়েছে কি না সেই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অন্যদিকে সৌভিক কোন পরিস্থিতিতে হাত কাটলেন তা-ও পরিষ্কার নয়। আপাতত মৃতের লিভ ইন পার্টনার সৌভিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, তৃষা-সৌভিকের কাছে একটি পোষ্য বিড়াল ছিল। সেই বিড়ালটি বর্তমানে বাড়ির মালিকের কাছে রয়েছে।
সোমবারের পর মঙ্গলবারও ফের উত্তাল রাজধানী। ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধরনা। দিল্লি পুলিশের হাতে আটক সাংসদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদব। তাঁদের ছাড়াও আটক করা হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন কংগ্রেসে নেতা-কর্মীকে।
মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশ্যে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।
এরপরই বিক্ষোভকারীদের হটাতে তৎপর হয় দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। রাহুল, অখিলেশ, প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্যদের তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে। জিতেন্দ্রর অভিযোগ, কংগ্রেস নিজেদের দাবি বারবার পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “রাহুল আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন – সরকার যদি নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনায় সম্মত হয়, তাহলে কংগ্রেস তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবে। কিন্তু তিনি সেই কথা রাখেননি।” জিতেন্দ্র আরও বলেন, “আমরা রাহুলের দাবি মেনে নিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আবার নতুন দাবি করেন। বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে। দাবি পরিবর্তন নিয়ে রাহুলকে বলা হলে, তিনি উত্তর দেন – এখন দাবি বদলে গিয়েছে।”
বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ‘ককরোচ’দের নিয়ে আসলে রাহুলের কোনও উদ্বেগ নেই। পুরোটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। সেই কারণেই তিনি বারবার তাঁর দাবিদাওয়া বদলাচ্ছেন। এর আগে আমেরিকায় গিয়ে তিনি ভারতের গণতন্ত্রের সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ করেন, ভারতে গণতন্ত্র চাপের মুখে পড়েছে। সংসদ, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি শাসকদল ও আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, আপ নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, “রাহুল গোটা বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি আসলে বিজেপির চাপে রয়েছেন। তিনি যদি ছাত্র-যুবদের সমর্থন করতে চান, তাহলে তাঁর যন্তর মন্তরে যাওয়া উচিত।